মা মাটি মানুষের এই সময়ে বঞ্চিত কোচবিহারের মৃৎশিল্পীরা

39

মুক্তাঙ্কন বর্মণ, ৭ সেপ্টেম্বরঃ পূজো আসে, পূজো যায় কিন্তু দিন বদল হয় না কোচবিহারের মৃৎশিল্পীদের। অধরাই থেকে যায় নিদিষ্ট স্থানে কুমারটুলি গড়ার স্বপ্ন। মাটিকে দিয়ে মাকে তৈরি করে যে মানুষেরা, মা মাটি মানুষের এই সময়ে তারাই থাকে বঞ্চিত হয়ে। স্বপ্ন পূরনের অঙ্গীকারে এবার কি তবে ‘দিদিকে বলো’ আর্জি জানানোই হবে শেষ ভরসা !

কোচবিহার পাল পাড়ার মৃৎশিল্পী বাদল পাল অভিযোগ করে জানান দীর্ঘ দিন থেকে আমরা একটি নিদিষ্ট স্থানে কুমারটুলি গড়ার আবেদন রেখে আসছি স্থানীয় পৌরসভার কাছে। কিন্তু এই আবেদন দাবী হিসেবেই থাকছে আমাদের কাছে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

শহরের ২০ ওয়ার্ডে অবস্থিত এই পালপাড়া। শুধু সেখানেই নয় কোচবিহার গুঞ্জবাড়ি এলাকার ১ নং ওয়ার্ডেও রয়েছে মৃৎশিল্পীদের আস্তানা। নিদিষ্ট জায়গার অভাবে পথেই নির্মাণ হয় প্রতিমা। আর এর ফলেই যানজটের সৃষ্টি হয় ওই সব এলাকায়। নির্মাণ কল্প হয় ব্যাহত। প্রতিমা তৈরি এবং তা শুকনোর জন্য পথের ধারেকেই দীর্ঘ দিন থেকে ব্যবহার করে চলেছে মৃৎশিল্পীরা।  

সময় বদলেছে, তার সাথে বদলেছে প্রতিমার কাঠামো তৈরির ধরনও। আধুনিক সভ্যতার এই সময়ে এই শৈলীতে এসেছে পরিবর্তন। আর এর ফলে নির্মাণকল্পেও বেড়েছে ব্যয়। কিন্তু সেভাবে বাড়েনি শিল্পীর মজুরী বলে অভিযোগ। পুজোর গ্ল্যামার বাড়াতে কলকাতার কুমারটুলির শিল্পীদের তৈরি প্রতিমার ঝোক পুজো কমিটি গুলির মধ্যে। এর ফলে স্থানীয় শিল্পীরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছে প্রতিযোগিতার বাজারে। এখানেও দেখা দিয়েছে স্থানীয় শিল্পীদের পেশায় সংকট।   

মৃৎশিল্পী সুজিত পাল বলেন, আজকের সময়ে পেশা টিকিয়ে রাখতে প্রায় যুদ্ধ করতে হচ্ছে আমাদের। এরপর নিদিষ্ট স্থানের অভাবে প্রতিমা নির্মাণের ক্ষেত্রে হচ্ছে অসুবিধা। তাই আমরা চাই কোচবিহারের নিদিষ্ট স্থানে একটি কুমারটুলি তৈরি হোক।

এবিষয়ে কোচবিহার পৌরসভার পৌরপতি ভূষণ সিং বলেন, মৃৎশিল্পীদের এই দাবী দীর্ঘদিনের। কিন্তু এর প্রতি আমাদের সহানুভূতি থাকলেও বাস্তবে এই পরিকাঠামো গড়া শহরে সম্ভব নয়। প্রশাসনিক স্তরে তারা এই আবেদন করুক। প্রয়োজনে আমার পরামর্শ ‘দিদিকে বলুক’ তারা। এক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান হলেও হতে পারে।