সোনালীর পর এবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন সরলা মুর্মু

120

ওয়েব ডেস্ক, ২৩ মেঃ সোনালি গুহর পর এবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন আরও এক হেভিওয়েট নেত্রী। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় নাম ছিল, তা সত্ত্বেও মালদহ থেকে কলকাতায় এসে বিজেপিতে নাম লেখান মালদহের হবিবপুরের জোড়া-ফুল প্রার্থী তথা মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য সরলা মুর্মু। পরে ওই কেন্দ্রে প্রদীপ বাস্কেকে প্রার্থী করে তৃণমূল। বিজেপিতে যোগদানের সময় সরলার দাবি ছিল, বহুবার দলকে জানিয়েছিলেন, পুরাতন মালদহে প্রার্থী হতে চান তিনি। কিন্তু তৃণমূল তাতে কর্ণপাত করেনি। হবিবপুরের প্রার্থী করা হয়েছিল তাঁকে। সেই কারণেই দলত্যাগের সিদ্ধান্ত।

সেই সরলাই এবার অভিমান ভুলে তৃণমূলে ফেরার আবেদন জানালেন। একটি সংবাদমাধ্যমকে সরলা জানিয়েছেন, ভুল বুঝিয়ে তাঁকে বিজেপিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং সেকারণেই পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে আসতে চান। জেলা নেতৃত্বকে সেকথাটাই জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর বক্তব্য, সরলা মোটেই ভুল করে বিজেপিতে যায়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেয় করা উদ্দেশ্যেই বিজেপিতে গিয়েছিল। ওকে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে রাজ্য নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেবেন। আমাদের এই বেইমানদের সম্পর্কে আপত্তি আছে।

যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস বলেন, দলে ফিরতে চেয়ে সরলা আমাকে তাঁকে ফোন করেছিলেন। কৃষ্ণেন্দুর সুরেই সরলাকে দলে ফেরানোর ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, কঠিন সময়ে যাঁরা দলকে ছেড়ে যায়, তাঁদেরকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিন্তু দলের অনেক ভাবনাচিন্তা করা উচিত। এদিকে বিজেপির জেলা সভাপতি গোবিন্দচন্দ্র মণ্ডল বলেন, এবারের নির্বাচনে সরলা বিজেপির হয়ে যথেষ্টই পরিশ্রম করেছেন। তারপরেও উনি কেন এমন বললেন জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। সরলার সঙ্গে কথা বলতে হবে।

উল্লেখ্য, কংগ্রেসের প্রতীকে মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সরলা মুর্মু। তবে ২০১৮-র পঞ্চায়ের ভোটের পরপরই তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। এবার তাঁকেই হবিবপুরে প্রার্থী করে তৃণমূল। যদিও ওই কেন্দ্রে লড়তে চাননি সরলা। হবিবপুরের বদলে পুরাতন মালদহ থেকে লড়াইয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। পুরাতন মালদহের টিকিট না মেলায় বেঁকে বসেন সরলা। তারপরই দলবদলের সিদ্ধান্ত নেন। প্রসঙ্গত, হবিবপুরে গেরুয়া শিবিরের প্রভাব ভালো। এবারের নির্বাচনেও এই আসন বিজেপিই পেয়েছে।