ফের তৃনমূলে ভাঙ্গন দিনহাটায়, বিজেপিতে যোগ দিলেন পুঁটিমারির গুলিবিদ্ধ নির্দল প্রার্থী ভোলা বর্মণ সহ ১০০টি পরিবার

0
170

খবরিয়া ২৪ নিউজ ডেস্ক ব্যুরো, কোচবিহারঃ ফের দিনহাটায় তৃনমূলের ভাঙ্গন। ঘাসফুল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করলেন প্রায় ১০০ পরিবার। এদিন দিনহাটার পুঁটিমারি ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের কোয়ালিদহ ৭/২৫৫ নং বুথে প্রায় ৮০টি পরিবার ও শিমুলতলা এলাকায় ২০টি পরিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর ভেটাগুড়ির বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা বিজেপিতে যোগদান করেন। এদিন তাদের হাতে বিজেপির দলীয় পতাকা তুলে দেন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। তিনি ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জয়দীপ ঘোষ।

সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃনমূল কর্মী তথা গুলিবিদ্ধ নির্দল প্রার্থী ভোলা বর্মণ জানান, আমি পুঁটিমারি ১ নং অঞ্চলের  কোয়ালিদহ ৭/২৫৫ নং বুথের প্রায় ৮০-৯০টি পরিবার তৃনমূল ছেড়ে বিজেপিতে যায় যোগদান করলাম।

এদিন এবিষয়ে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জয়দীপ ঘোষ জানান, পুঁটিমারি ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭/২৫৫ বুথের প্রায় ১০০ পরিবার তৃনমূলে যোগদান করেন। ভোলা বর্মণ তৃনমূলের পুরনো কর্মী। তিনি ওই এলাকায় লোকজন দের নিয়ে এসে বিজেপিতে যোগদান করেন। আমরা তাদের বিজেপিতে স্বাগত জানালাম। নবাগতদের নিয়ে আমরা ওই এলাকায় সংগঠনকে আরও বৃদ্ধি করবো। আজ সারা দেশের মোদীজির জয় জয় কার। সেই জয়কে সামনে রেখে দিনহাটার বিভিন্ন এলাকায় বিজয় মিছিল করছি। এবং এর পাশাপাশি তৃনমূল থেকে আজ বিভিন্ন এলাকার কর্মীদের ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করালাম। তার পাশাপাশি দিনহাটার তৃনমূল নেতাদের একটা ট্রেইলার দেখান হল। এরপর আরও দেখান হবে। আগামী লোকসভা ভোট আসতে আসতে তৃনমূল করার কোন লোক থাবে না বলে দাবি করেন তিনি।

এদিন এবিষয়ে তৃনমূল নেতা বিশু ধর বলেন, যত লোক বিজেপিতে যাচ্ছে তার বেশি বিজেপি ছেড়ে তৃনমূল আসবে। যারা ধান্দাবাজ নেতা কর্মী তারা এখানে করে খেতে না পেয়ে তারা বিজেপিতে যোগদান করছে। যারা মানুষের কাজ করতে চায় তারা বিজেপি ছেড়ে তৃনমূলে আসছেন। এটা নিয়ে আমরা চিন্তিত না। আমাদের লক্ষ্য পঞ্চায়েত ভোটে যে পরিমান বৃদ্ধি হয়েছে, তার থেকে আরও বেশি ভোট আমরা চাই। তাই কে কোথায় গেল তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার সময় নেই বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় তৃনমূলের টিকিট পায় ভোলা বর্মণ। তিনি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে গিয়ে নমিনেশন দাখিল করেন। পরে সেই নাম বাদ দিয়ে কে বা কারা সিতু চন্দ্র দাসকে টিকিট দেন। সেই নাম পরিবর্তনের খবর স্কুটুনি হয়ে যাওয়ার পর জানতে পারেন ভোলা বর্মণ। তারপর তিনি সিদ্ধান্ত নেন নির্দল প্রার্থী হয়ে লড়াই করবেন। তারপরে তৃনমূল কংগ্রেস এলাকায় তাকে প্রচার করতে দেয় নি বলে অভিযোগ। এলাকায় ভোলা বর্মণ ভালো মানুষ দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি ওই এলাকার কংগ্রেসের পঞ্চায়েত ছিলেন। পঞ্চায়েত থাকা অবস্থায় তিনি তৃনমূলে যোগদান করেন। এলাকায় দেখা যায়, তৃনমূল প্রার্থী সিতু চন্দ্র দাসের পিছনে ১৫-২০ জন লোক নিয়ে ভোট প্রচার করেন। কিন্তু নির্দল প্রার্থী ভোলা বর্মণের পিছনে প্রায় ১০০- ১৫০ লোকজন। এটা দেখার পর এলাকায় তৃনমূল নেতৃত্বরা ভোটের আগের রাতে সন্ধ্যায় খরখরিয়া স্কুলে একটি বৈঠক করে কিভাবে ভোলা বর্মণকে দমানো যায়। কারন তাকে দমাতে পারলে পুটিমারি এলাকায় ৬ জন নির্দল প্রার্থী দমে যাবে। সেই ভাবনা নিয়ে সেই রাতে প্রথমে এলাকায় ১০টি বাইক নিয়ে কোয়ালিদহ এলাকায় যান। সেখানে রাস্তায় বোমা বাজি করে। সেই সময় সামান্য উত্তেজনা হলেও সেখান থেকে তাঁরা নির্দল কর্মীদের তাড়া খেয়ে পালিয়ে যান। পরে পুটিমারি অঞ্চলের বিভিন্ন বুথ থেকে নেতা কর্মীদের নিয়ে এসে নির্দল কর্মীর বাড়ির সামনে থাকা ইলেকট্রিকের ট্রান্সফরমারের হাতলো নামিয়ে দিয়ে তাদের বাড়িতে গুলি ও বোমা বাজি করতে করতে যায়। প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ও ৫০ টি বোমা ফাটান হয়। তারপর নির্দল প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে বাড়ির জানলা দরজা ও বাড়ির গেট ভেঙ্গে ফেলে ভিতরে প্রবেশ করেন। তারপর ভোলা বর্মণের বাড়িতে থাকা নির্দল সমর্থক তৃনমূল কর্মীদের ব্যাপক ভাবে মারধোর করেন মাথা ফাটিয়ে দেন, কয়েকজনের হাত ভেঙ্গে দেন এবং শেষে নির্দল প্রার্থী ভোলা বর্মণের পেটে পরপর দুটি গুলি করেন বলে অভিযোগ নির্দল প্রার্থীর স্ত্রী কল্যাণী বর্মণের।

পরে রাতেই ভোলা বর্মণ ও আক্রান্ত কর্মীদের নিয়ে প্রথমে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাদের কোচবিহারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকায় পর একটি গুলি ভোলা বর্মণের পেট থেকে বের করা সম্ভব হলেও এখনও তার পেটে একটি গুলি রয়েছে বলে পরিবারের দাবি। তারপর এই ঘটনা নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তাদের পরিবারের লোকজনকে হয়রানী করার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে তারা দিনহাটা কোর্টে ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নির্দল প্রার্থীর স্ত্রী। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে দিনহাটা ১ নং ব্লকের তৃনমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন। পরে অভিযুক্ত তৃনমূল নেতা কর্মীরা বারবার আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেন আগাম জামিন না পাওয়া ঘর ছাড়া হয়ে পরে তৃনমূল নেতা কর্মীরা। দীর্ঘ তিন মাস ধরে নেতা শূন্য পুঁটিমারি অঞ্চল। পরে অভিযুক্তরা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করলেও এখন তারা আগাম জামিন পান নি। অনেকে বাড়ি ফিরে এলেও অনেকে নেতা ব্যাঙ্গলার, দিল্লী রয়েছে বলে জানা গিয়েছে স্থানীয় সুত্রে।  তারপর তিন মাস পর সাইফুল ইসলাম জামিন পেয়ে যান। তারপর ভোলা বর্মণ ও তার পরিবার ন্যায্য বিচার পাবেন না বরং উল্টো তৃনমূল নেতারা তাদের নানা ভাবে ভয় দেখাতে পারে ভেবে এবং ন্যায্য বিচারের দাবিতে গুলি পেটে নিয়ে আজ মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের ভেটাগুড়ির বাড়িতে যান। নিশীথের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেন।

রাজনৈতিক মহলের ধারনা, ভোলা বর্মণকে যারা গুলি করে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে,তাদের শাস্তি বা সাজা দিতে চাইছেন তিনি। কারন তৃনমূলে থাকলে হয়তো তিনি তাদের সাজা দিতে পারবেন না। সেই কারনে হয়তো বিজেপি তাকে সিবিআই তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। সেই কারনে তিনি আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেন। তার সহযোগিতায় প্রকৃত দোষীদের শাস্তি বা সিবি আই তদন্ত পাবেন এই আশায় তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here