দিল্লিতে ভোট দিলেন ১১১ বছরের কালিতারা দেবী

50

ওয়েব ডেস্ক, ৮ ফেব্রুয়ারিঃ শনিবার সকাল থেকে দিল্লিতে শুরু হয়েছে ভোট গ্রহন। দিল্লির সবচেয়ে প্রবীণ ভোটার ১১১ বছরের কালীতারা মন্ডল। এবার ভিআইপির সম্মান পাবেন নির্বাচনে। জন্ম তাঁর বাংলাদেশে। বঙ্গভঙ্গের মাত্র তিন বছর পরেই। তাঁর চোখের সামনে এখনও জ্বলজ্বল করছে দেশভাগের স্মৃতি। জীবনে দু’বার উদ্বাস্তু হওয়ার যন্ত্রণা ভোগ করেছেন দিল্লির কালীতারা মণ্ডল। সিআর পার্কের বাসিন্দা ওই ভোটার। আর ইনিই এখন রাজধানীর প্রবীণতম ভোটার। এপ্রিলেই তাঁর বয়স হবে ১১২ বছর। এখনও ইলিশেই তাঁর মন মজে। সবসময় মুখে পুড়ে থাকেন পান-জরদা।

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সব নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন তিনি। তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে দিল্লি নির্বাচন কমিশন।  

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক ইংলিশ সংবাদ মাধ্যমের সাক্ষাৎকারে কালীতারাদেবী বলেন, “আমার এখনও মনে আছে, আগে হাতের আঙুলে কালি লাগিয়ে ব্যালট পেপারে ভোট দিতাম। তারপরে ইভিএম এল।” শনিবার তিনি গ্রেটার কৈলাস বিধানসভা কেন্দ্রের সিআর পার্কের এসডিএমসি প্রাথমিক স্কুলে ভোট দেন।

কালীতারা দেবীর ছেলে সুখরঞ্জনের কথায়, “ভোট দিতে মা মুখিয়ে থাকেন। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে কোনওদিন দেখিনি ভোটের দিন মা ভোট দিতে যাননি।” এক নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছিলেন কালীতারা। কিন্তু দেরি হয়ে যাওয়ায় সেই সুবিধা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে কালীতারাদেবী ভোট দিতে যাতে কোনও অসুবিধে না হয়, সে ব্যবস্থাও করেছে নির্বাচন কমিশনের দফতর। গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি ভোটারদের উদ্দেশে কালীতারাদেবীর বার্তা, “ভোটের দিন বাড়িতে বসে থাকবেন না। নিজের অধিকার প্রয়োগ করুন। এটাই গণতন্ত্র।”

জানা গেছে, কালীতারা দেবীর যাতে ভোট দিতে কোনওরকম অসুবিধা না হয় সেজন্য তাঁর বাড়িতে গাড়ি পাঠানোরও ব্যবস্থা করে নির্বাচন কমিশন। সেই গাড়িতে তিনি ও তাঁর পরিবার এসে সিআর পার্ক বুথে ভোট দেন। পাশাপাশি একজন পোলিং অফিসার জানিয়েছেন, বাড়িতে পোস্টাল ব্যাটলে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন কালীতারা দেবী। তবে হাতে সময় না থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি।

পরিবার সূত্রে খবর, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পরে পরিবার নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন কালীতারা। অন্ধ্রপ্রদেশে গিয়ে ওঠেন তাঁরা। কিন্তু ভিটেমাটির টান উপেক্ষা করে থাকতে পারেননি। তাই কিছুদিন পরে ফের বাংলাদেশে ফিরে যান তাঁরা। কিন্তু সেবারেও বেশিদিন থাকতে পারেননি। ফের ভারতে এসে মধ্যপ্রদেশে আশ্রয় নেন তাঁরা। পরে দিল্লিতে এসে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করে মণ্ডল পরিবার।