উচ্চমাধ্যমিকে ৪৯২ নিবেদিতা শীলের অর্থাভাবে থমকে যাচ্ছে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন

84

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাটঃ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর উচ্চমাধ্যমিকেও নজরকাড়া সাফল্য বালুরঘাটের ললিত মোহন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী নিবেদিতা শীলের। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪৯২ নম্বর পেয়ে রাজ্যে দশের ঘরে জায়গা করে নিয়েছে এই মেধাবী ছাত্রী। পারিবারিক অনটনের মধ্যে এক সহৃদয় ব্যক্তির সহায়তায় মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছে সে। তবে আগামী দিনে তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের আর্থিক সমস্যা। এমত অবস্থায় কোন সরকারি, বেসরকারি সাহায্য দিকে তাকিয়ে রয়েছে নিবেদিতা শীলের পরিবার।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া হিলি ব্লকের পশ্চিম আপতৈরের বাসিন্দা পেশায়য় টিভি মেকানিক রতন শীলের মেয়ে নিবেদিতা শীল। মাধ্যমিকে ভালো ফল হওয়ায় কলকাতার রামমোহন কলেজের অধ্যাপক সানোয়ার মোল্লা তার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমে খবর দেখে ওই সহৃদয় ব্যক্তি বইপত্র এবং পড়াশোনার খরচ বহন করেছিলেন। দুই বছর পর উচ্চমাধ্যমিকে তার সাফল্যে খুশি সানোয়ারবাবু। তবে আগামী দিনে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে মেধাবী ছাত্রী নিবেদিতা শীলের। নিবেদিতা শীল জানিয়েছেন, তার পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ হয়েছে। আগামী দিনে সে ডাক্তারি পড়ে চিকিৎসক হতে চায়।

মেধাবী ছাত্রীর বাবা রতন শীল ও মা জানিয়েছেন, মেয়েকে পড়ানো তাদের ভীষণ ইচ্ছে রয়েছে। তবে আর্থিক সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার বা কোন সহৃদয় ব্যক্তি তাদের সাহায্যে এগিয়ে এলে ভীষণ উপকৃত হবেন।

এদিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন হাই স্কুলের ছাত্র উজ্জ্বল হালদার ৪৮৮ নম্বর পেয়ে বিদ্যালয় প্রথম স্থান অধিকার করেছে। অভাবী পরিবার থেকে পড়াশোনা করে তার এমন সাফল্যে খুশি শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে অভিভাবকরা। আগামী দিনে দেশের সেবায় ডিফেন্স সেক্টরে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে তার।  পেশায় মাছ ব্যবসায়ী উজ্জলের বাবা উত্তম হালদার ও মা সানকো হালদার জানিয়েছেন, ছেলের ইচ্ছা পূরণ করতে যথাসম্ভব চেষ্টা করবেন তারা। তার ভাল রেজাল্টে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।

উজ্জল হালদার জানিয়েছে, যতটা ভালো ফলের আশা করেছিল তার থেকেও ভালো ফল হয়েছে। আগামী দিনে ডিফেন্স সেক্টরে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার।