দুঃস্থদের জন্য ৫ দিনের বিনা পয়সায় বস্ত্রের দোকান দিনহাটায়

158

দিনহাটা, ২৮ সেপ্টেম্বরঃ শারদ উৎসবকে এক ভিন্ন মাত্রা দিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করলো দিনহাটার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শনিবার মহালয়ার দিন  থেকে পঞ্চমীর দিন পর্যন্ত দুঃস্থ অসহায় মানুষদের পুজার আনন্দে সামিল করতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে অভিনব ভাবে বিনা পয়সায় বাজার শুরু হয়েছে দিনহাটার একটি সংস্থার উদ্যোগে। এই বাজার থেকে দুঃস্থ অসহায়রা তাদের নিজেদের ইচ্ছে মতো পছন্দের জামা-কাপড় নিতে পারবেন। পাঁচ দিনব্যাপী বিনা পয়সার এই বাজার শুরু হল আজ। চলবে পঞ্চমীর দিন পর্যন্ত। এদিন এই দোকানের উদ্বোধন করেন দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ।

 জানা গেছে, দুস্থ অসহায় মানুষগুলো যাতে নিজেদের পছন্দমত এবং ইচ্ছেমতো জিনিস নিতে পারে এবং পুজোর আনন্দে সামিল হতে পারে সে কথা মাথায় রেখেই দিনহাটা শহরের থানা মোড় এলাকায় এই বাজার চালু হয়েছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা যে উদ্যোগ নিয়েছে তাকে সাধুবাদ জানান সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। অসহায়-দুস্থ মানুষেরা এই বাজার থেকে নিজেদের পছন্দমত তাদের জামা, প্যান্ট, মহিলাদের শাড়ি, চুড়িদার থেকে শুরু করে ধুতি,পাঞ্জাবি এমনকি শিশুদেরও নানারকম জামা নিতে পারবে। এর জন্য দুস্থ অসহায় মানুষগুলোকে এই বাজারে এসে কোনরকম টাকা দিতে হবে না বলে ঘোষণা করেছে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা।

সংস্থার পক্ষে মৃত্যুঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়, শৌমিক বিশ্বাস,রাহুল দাস, রাজু রায়, জয়ন্ত রুদ্ররা জানান, দুঃস্থ অসহায় মানুষদের কথা মাথায় রেখেই পাঁচ দিনের এই বিনে পয়সার বাজার তারা চালু করতে চলছেন। তাদের কথায় বর্তমান সময়ে জিনিসপত্রের দাম অগ্নিমূল্য। পুজো মানেই আনন্দ। আর এই আনন্দে দুস্থ অসহায় মানুষেরা যাতে নিজের পছন্দমত জিনিসপত্র নিতে পারে সে কথা মাথায় রেখেই তারা এ ধরনের বাজার চালু করেছেন।

দুঃস্থ ছেলে মেয়েদের দোকানে ভিড়

উদ্যোক্তাদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় জানান দুস্থ অসহায় পরিবারের অনেকেই জামা কাপড়ের অভাবে পূজোর আনন্দে শামিল হতে পারেন না। মূলত তাদের কথা মাথায় রেখেই বিনা পয়সার এই বাজারে নতুন এবং পুরানো বিভিন্ন ধরনের জামা কাপড় রাখা হচ্ছে। এখানে এসে তারা নিজেরাই নিজেদের পছন্দমত জামা কাপড় নেওয়ার পাশাপাশি তা ঠিক হচ্ছে কিনা সেটাও তারা দেখে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ৫ দিনে ৫ শতাধিক মানুষের জন্য এই বাজারে জিনিসপত্র মজুদ করা হচ্ছে বলেও তারা জানান।

উদ্যোক্তাদের কোথায় অনেকেই নিজেরাই আগ্রহী হয়ে তাদের এই বাজারে এসে বিভিন্ন রকম নতুন ও পুরনো ব্যবহারযোগ্য জামা কাপড় উৎসাহের সাথে দিয়ে যাচ্ছেন। উদ্যোক্তারা আরো জানান সাধারণত কোন বস্ত্রদান অনুষ্ঠানে দুস্থ অসহায় মানুষদের হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়া হলেও সেখানে তাদের পছন্দ-অপছন্দের কোন সুযোগ থাকেনা। কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে যা তুলে দেওয়া হয় তাদের সেটাই নিয়ে থাকতে হয়। এক্ষেত্রে তাদের এই বিনা পয়সার বাজারে যারা আসবেন তারা সকলেই নিজের পছন্দ মত করে জামা কাপড় বেছে নিতে পারবেন।

দুঃস্থ অসহায় মানুষদের পুজোর আনন্দে শামিল করতে এই যেন এক অভিনব পদ্ধতি। বিনা পয়সায় বাজারে বস্ত্র মিলবে একথা অনেকেই বিশ্বাস না করলেও মহালয় সকাল থেকে পাঁচ দিনের জন্য এমনই এক বাজার সেজে উঠেছে দুস্থ অসহায় মানুষদের জন্য। অভিনব এই বাজারে ইতিমধ্যেই সাজিয়ে তোলা হয়েছে জামাকাপড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম নতুন ও পুরনো বস্ত্র। গত কয়েকদিন ধরে উদ্যোক্তারা তাদের এই প্রচেষ্টাকে সার্থক রূপ দিতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।শেষ পর্যন্ত মহালয়ার দিন থেকে শুরু হয়েছে এই বাজার।