ঈশ্বরপ্রীতি, পারস্পরিক সৌভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার বড়দিন…

33

ওয়েব ডেস্ক, ২৪ ডিসেম্বরঃ ২৫ ডিসেম্বর, বড়দিন। বহু মহামানব দুনিয়ায় এসেছেন মানব সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করতে। এদেশ-বিদেশ মিলেমিশে একাকার হয় বড়দিনে। বিদেশে জন্মেও যীশু খ্রিস্ট ভারতেও সমাদৃত। বড়দিনের আগে তাই বাড়ি সেজে ওঠে আলোয়, খ্রিস্টমাস ট্রি, তারা, ঘণ্টায়। বেকারির দোকান ম- ম রকমারি পাম কেক, পেস্ট্রি, কুকিজের গন্ধে। মহামানবের জন্মদিন কেক কেটে সাড়ম্বরে পালিত হবে বলে। ২৪ ডিসেম্বর যে উৎসবের শুরু, তার শেষ ৫ জানুয়ারিতে। ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে। সান্তার সঙ্গে রংমিলন্তি, বড়দিনে রেড ভেলভেট পেস্ট্রি।

বড়দিনের ইতিহাসঃ ইতিহাস বলছে, ২৫ ডিসেম্বর বেথেলহেম নগরের এক গো-শালায় কুমারী মা মেরির কোলে জন্মেছিলেন মানব ত্রাতা জেসাস ক্রাইস্ট। ঈশ্বর পুত্রের আবির্ভাব নাকি মানুষের মনে ঈশ্বরপ্রীতি, পারস্পরিক সৌভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা জাগাতে। বিশ্ব থেকে হিংসা মুছতে। আর তার জন্য তিনি ক্রুশ বিদ্ধ হয়ে প্রাণ দিতেও দ্বিধা করেননি। তাঁর অনুগামীরা সমাজে খ্রিস্টান হিসেবে পরে পরিচিত হন। যীশুর বাণী সম্বলিত গ্রন্থ পরে বাইবেল নামে পরিচিত হয় বিশ্বে।

বাইবেলে যীশুর কোনও জন্মতারিখ দেওয়া নেই। তবে ৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ যীশুর জন্মের আগে রোমে প্রথম খ্রিস্টান সম্রাটের আমলে ২৫ ডিসেম্বর প্রথম বড়দিন উদযাপিত হয়েছিল। কয়েক বছর পরে, পোপ জুলিয়াস আনুষ্ঠানিকভাবে অই তারিখকে যীশুর জন্মদিন হিসেবে ঘোষণা করেন।

ক্রিস্টমাস ট্রি উৎসবে এই গাছ সাজানোর রেওয়াজ কম করে হাজার বছর আগে। উত্তর ইউরোপে তখন ফার গাছকে এভাবে সাজানো হত। ফার গাছ ছাড়াও আলো দিয়ে সাজানো হত চেরি গাছকেও। যাঁরা খুব গরিব, তাঁরা কাঠের টুকরো জড়ো করে ত্রিভুজ আকার দিয়ে তাকে সাজাতেন। আস্তে আস্তে এই চল ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। আলো, মিষ্টি, খেলনা, তারা, ঘণ্টা দিয়ে সাজানো হতে থাক তাকে। ধীরে ধীরে উৎসবের এই ঢেউ এসে লাগে ভারতেও।