পিরিয়ডসের সময় পেট ও কোমর ব্যথা দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি

1140

হেলথ ডেস্ক, ১ নভেম্বরঃ ঋতুস্রাবের সময় অনেক মেয়েরই পেটে ব্যথা হয়। অনেকে আবার কোমর আর হাঁটুর ব্যথাতেও ভোগেন। ব্যথা সহ্য করতে না পেরে পেনকিলার খেয়ে থাকেন। তবে সেটা ডাক্তাররা বারণ করেন। কারণ একবার ওষুধ খাওয়ার অভ্যেস হয়ে গেলে সেটা খুব খারাপ। তখন আর ওষুধ না খেলে ব্যথা কমে না। তবে কিছু ঘরোয়া উপায় আছে যেগুলো অনুসরণ করলে এই ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ঋতুস্রাবের সময় কেন হয় পেট ব্যথা?

ঋতুস্রাব হওয়ার সময় জরায়ু কুঞ্চিত হয়ে যায় এবং জরায়ুর দেওয়াল থেকে অনেকটা সরে যায় ও রক্ত প্রবাহ হয়। জরায়ু কুঞ্চিত হবার ফলেই পেটে ব্যথা বা কোমরে ব্যথা হয়ে থাকে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার প্রথম দু’দিন।

১) পিরিয়ডসের ব্যথা কমানোর অন্যতম প্রধান এবং সহজ উপায় হল গরম জলের সেঁক নেওয়া। অতিরিক্ত ব্যথা হলে গরম জলের সেঁক নিতে পার। এক্ষেত্রে হট ওয়াটার ব্যাগটিকে কোমর বা তলপেটের দিকে রাখতে হবে। একই সঙ্গে খেয়াল রাখা প্রয়োজন, জল যাতে খুব বেশি গরম না হয়। আর মাঝে-মাঝে ছোট কাপে করে ঈষৎ-উষ্ণ গরম জল খাওয়াও যেতে পারে। এতে ব্যথা অন্তত সাময়িকভাবে রিলিফ পাওয়া যাবে।

২) পিরিয়ডসের দিনগুলোতে একই সঙ্গে গরম জলে আদাকুচি করে, তাতে মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে খেলে পেটের ব্যথা অনেকখানি কমবে।

৩) আদার পাশে-পাশে তুলসী পাতাও কিন্তু পেটের ব্যথাতে বিশেষ উপকারি। তুলসী পাতার রস করে, সেই রস গরম জলে মিশিয়ে দিনে দু’-তিনবার খাওয়া যেতে পারে। মুখের অরুচি ভাব যেমন কাটবে, তেমনই পেটের ক্রাম্পও কমবে।

৪) এই সময় আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে জলের প্রয়োজন পড়ে, কাজেই বেশি করে জল খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

৫) এ ছাড়া দারচিনি গুঁড়ো করে গরম জলে দিয়ে সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

৬) অনিয়মিত পিরিয়ড্‌সের ব্যথা কমাতে চাইলে, গাজর এবং গাজরের রস বিশেষ উপকারি। গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ, সি, বি-১২। যা ওইসব দিনে শরীরের পুষ্টির খামতি পূরণে বিশেষ সাহায্য করে থাকে। কাজেই ডায়েট চার্চে গাজর রাখা যেতেই পারে।

৭) পিরিয়ড্স চলাকালীন ক্যালশিয়াম-ম্যাগনেশিয়াম-এর সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করবে। একই সঙ্গে পেশির দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করবে।

8) পিরিয়ড্‌সের দিনগুলোতে শাক-সবজি, মাছ-মাংস ইত্যাদি এড়িয়ে চলাই ভাল। তবে অন্যান্য প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

৯) অ্যালকোহল কিংবা স্মোকিং ওইসব দিনগুলোতে না করাই ভাল, এতে হরমোনাল ডিসব্যালেন্স ঘটে পেটের ব্যথা আরও বাড়তে পারে।

১০) ক্যাফিন জাতীয় জিনিস আমাদের শরীরের পেশিগুলোকে অধিক পরিমাণে সংকুচিত করে ফেলে, সেক্ষেত্রে ব্যথার তীব্রতা বাড়তে পারে। কাজেই কফির নেশা থাকলে ওইসব দিনে কফির বদলে গ্রিন-টি রাখা যেতে পারে।

১১) পেটের ব্যথার কারণে মুড সুইং খুব স্বাভাবিক বিষয়। বন্ধুদের সঙ্গে অকারণে ঝগড়াও হতে পারে।

 ১২) পিরিয়ডের সময়ে ফুট মাসাজ ভালো জিনিস। শরীরের ক্লান্তি মেটাটে গরম জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকা যেতে পারে। কিছু-কিছু আকুপাংচার পয়েন্ট তলপেটের যন্ত্রণা কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে, ন্যাচরাল আকুপাংচার অনেক বেশি উপকারি ওষুধের থেকে।

১৩) পিরিয়ড্স চলাকালীন একজায়গায় বসে বা শুয়ে না থেকে নিজেকে সক্রিয় রাখলে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

আজকের দিনে পলিসিসস্টিক ওভারি-র কারণে ব্যথা অনেক বেশি পরিমাণে হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট চার্ট এবং ওষুধ খেয়ে যেতে হবে।