মাথাভাঙ্গা আদালত চত্বরে থাকা ল’ ক্লার্ক এবং মুহুরিদের বসার ঘর ভেঙ্গে দেওয়ার প্রতিবাদে এক দিনের কর্ম বিরতি পালন

100

কাজল রায়, মাথাভাঙ্গাঃ মাথাভাঙা পৌর প্রশাসন এবং প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে, পুলিশের উপস্থিতিতে মাথাভাঙা শহরের কয়েকটি জায়গায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে নামে। আর্থ মুভার দিয়ে বেআইনিভাবে ফুটপাত দখল করে থাকা দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। তারপর মাথাভাঙ্গা আদালত চত্বরে থাকা মুহুরী বাবুদের সমস্ত ঘর ভেঙে ফেলা হয় এবং ফাঁকা করে দেওয়া হয়। আজ সকালে মাথাভাঙ্গা আদালতের মহুরিরা এসে দেখেন তাদের বসার ঘর এবং চেয়ার টেবিল ভেঙে ফেলা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এরপর ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। পরবর্তী সময়ে মহকুমা শাসকের সঙ্গে দেখা করেন  ল ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

মাথাভাঙ্গা ল ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আতিয়ার রহমান, রাজ্য কমিটির সদস্য গোলজার মিয়া বলেন, “পৌর এবং মহাকুমা প্রশাসন আমাদের আদালত চত্বরে থাকা ঘরগুলো ভেঙে দিয়েছে। আমাদেরকে জানানো হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আজকে এক দিনের প্রতীকী কর্মবিরতি পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি ইউনিয়নের পক্ষ থেকে।” তারা আরও বলেন, “মহকুমাশাসক আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রি ভুক্ত মুহুরীদের বসবার সুব্যবস্থা করে দেবেন। এতে আমরা খুশি। মুহুরী বাবুদের কর্মবিরতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের সহযোগী হিসাবে মাথাভাঙা বার অ্যাসোসিয়েশন বাবুরাও কর্মবিরতিতে সামিল হয়েছেন।”

মাথাভাঙ্গা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ রায় বসুনিয়া বলেন, গতকাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদালত চত্বরে থাকা মুহুরী বাবুদের ঘর ভেঙে দিয়েছে, বিষয়টি মুহুরী এবং উকিল বাবুদের জানানো হয়নি। তাই আমরা এই কর্মবিরতিকে সমর্থন জানাচ্ছি। আমরা মুহুরী বাবুদের হয়েও প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি তাদের জন্য যাতে নির্দিষ্ট বসবার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। মুহুরী এবং উকিল বাবুদের কর্ম বিরতির ফলে আজকে আদালতে কোন ধরনের কাজকর্ম হয়নি। আসামি, সাক্ষী, বিচারপ্রার্থীরা তারিখ অনুযায়ী আজকে আদালতে এসেছিলেন কর্মবিরতির ফলে তারা বাড়িতে ফিরে গেছেন।

এ রকমই কয়েকজন গ্রামের বাসিন্দা প্রামানিক বর্মন কেস নাম্বার হাজার ৫৭/১৪ তার বাড়ি রাম ঠেঙ্গা এলাকায়, তিনিও কর্মবিরতির জন্য আদালত থেকে বাড়ি ফিরে যান। গোসাইরহাটের মিঠুন বর্মন তারও আজকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা, কিন্তু কর্মবিরতির ফলে তিনি আর হাজিরা দিতে পারেননি। তিনি বলেন, এই সময় গ্রামে প্রচুর কাজ থাকে কাজকর্ম ফেলে হাজিরা দিতে এসেছিলাম কিন্তু দিতে পারলাম না আমার অনেক সময় নষ্ট হল এবং কাজকর্ম বন্ধ হল।

এ বিষয়ে মাথাভাঙ্গার মহকুমাশাসক অচিন্ত্য কুমার হাজরা বলেন, “সকলের সহযোগিতায় গতকাল বেআইনি ফুটপাত দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং আদালত চত্বরে থাকা সরকারি জমিতে যে সমস্ত ঘর বাড়ি ছিল তা নিয়ম মেনে ভাঙ্গা হয়েছে। আমার কাছে বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা এসেছিলেন, তাদের দাবি দাওয়ার কথা শুনেছি। ভবিষ্যতে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যায় কিনা তা প্রশাসনিক বিভিন্ন মহলে আলাপ আলোচনা করে বিষয়টি দেখা হবে।