প্রধান পদ থেকে অপসারিত আবুয়ালকে অঞ্চল সভাপতির দায়িত্ব, কোচবিহার তৃণমূলে বিধায়ক বনাম জেলা সভাপতির কোন্দল চরমে

650

কোচবিহার, ১ ডিসেম্বরঃ বিধায়ক শিবিরের না পছন্দ দিনহাটার গীতলদহ ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অপসারিত প্রধানকে এবার দলের অঞ্চল সভাপতির দায়িত্বে বসালেন কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ ও সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ। আজ রাজ্যের শাসক দলের ওই দুই নেতার বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে অপসারিত প্রধান আবুয়াল আজাদকে গীতলদহ ১ নম্বর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করার কথা ঘোষণা করেন।

গিরীন্দ্রনাথ বাবু বলেন, “দলীয় নির্দেশ অমান্য করে গীতলদহ ১ নম্বরের অঞ্চল সভাপতি মাফুজার রহমান ৬ জন পঞ্চায়েত সদস্যকে নিয়ে আবুয়াল আজাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে প্রধান পদ থেকে অপসারিত করেছেন। তাই মাফুজার রহমানকে অঞ্চল সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। তাঁর জায়গায় আবুয়াল আজাদকে অঞ্চল সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হল।”

গীতালদহ ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অবস্থিত । একুশের বিধানসভা নির্বাচনে সেই কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয় বারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক জগদীশ বর্মা বসুনিয়া। তিনি নির্বাচনে জয় পাওয়ার পরেই ভোটে গোপনে বিজেপি হয়ে কাজ করার অভিযোগ আনেন আবুয়াল আজাদের বিরুদ্ধে। এরপরেই সেখানকার ৬ পঞ্চায়েত সদস্য আবুয়াল আজাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আসেন। কিন্তু জেলা সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ ও চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ জেলার অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েতের মত গীতালদহ ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতেও যাতে কোন রকম অনাস্থা না নিয়ে আসা হয়, তার জন্য নির্দেশ জারি করেন। কিন্তু দলীয় ওই নির্দেশকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রধানকে অপসারিত করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যায় বিধায়ক শিবির।

এক সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌছায় যে বিধায়ক শিবিরের অন্যতম নেতা তথা কোচবিহার জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নূর আলম হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন জেলা সভাপতি। এতে অনাস্থা প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়া তো দূরের কথা বিধায়ক জগদীশ বর্মা বসুনিয়া প্রকাশ্যে জেলা সভাপতি ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তায় ওই অনাস্থা পাস করিয়ে আবুয়াল আজাদকে প্রধান পদ থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয় বিধায়ক শিবির। আর এরপরেই তৃণমূলের জেলা সভাপতি ও চেয়ারম্যান সেই আবুয়াল আজাদকে অঞ্চল সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে বিধায়ক শিবিরকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করলেন বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে। এতে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের গোষ্ঠী কোন্দল আরও ব্যাপক আকার নিতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।