মাথাভাঙায় সালিশি সভা ডেকে মারধোর করায় নাবালকের আত্মঘাতী হওয়ার অভিযোগ, অভিযুক্ত স্থানীয় তৃণমূল কর্মী

123

কাজল রায়, মাথাভাঙ্গাঃ পারিবারিক অশান্তি মেটাতে শালিশি সভা ডেকে মারধোর করার পরেই এক নাবালকের আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আজ মাথাভাঙার ১ নম্বর ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছাটখাটের বাড়ি এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় আত্মঘাতী নাবালকের নাম আকাশ দাস। সালিশি সভা ডেকে নাবালককে মারধোর করার ঘটনায় স্থানীয় বেশ কয়েকজন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর নাম উঠে এসেছে। পুলিশ ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা জানা গিয়েছে, ছাটঘাটের বাড়ি এলাকার বাসিন্দা কার্ত্তিক দাস প্রথম পক্ষের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম পক্ষের দুই ছেলে মধ্যে আকাশ ছোট এবং তাঁর বড় ভাই প্রকাশ দাস রয়েছে। নতুন বিয়ের পর থেকেই বাবা ও দুই ছেলের মধ্যে নানান সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। শুক্রবার রাতে টিভি ভাঙার অভিযোগ নিয়ে ওই পরিবারে গণ্ডগোলের সৃষ্টি হয়। এরপর এদিন সকালে কার্ত্তিক দাস স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে ডেকে এনে সালিশি সভা বসায়। সেখানে আকাশকে মারধোর করা হয় বলে এক তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ। এরপরেই আকাশ অপমানিত বোধ করে আত্মহত্যা করে বলে আকাশের দাদা প্রকাশের অভিযোগ।

প্রকাশ বলেন, “ টিভি আমরা না ভাঙলেও বাবা আমাদের দুই ভাইয়ের উপড়ে দোষ চাপাচ্ছিল। এই নিয়ে বাড়িতে ঝগড়া হয়। আজ সকালে সালিশি সভা ডাকেন বাবা। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কর্মী ফটিক দাস, বাবলু দাস, প্রমোদ দাস সহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমার ভাইকে মারধোর করা হয়। তারপরেই অপমানিত বোধ করে আত্মহত্যা করে।”

মৃতের মাসি পলি বর্মন অভিযোগ করে বলেন, “ সকলের সামনে মারধর করায় অপমানিত বোধ করে আকাশ আত্মঘাতী হয়েছে। ওকে যারা মারধোর করেছে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

আকাশের বাবা কার্ত্তিক দাস বলেন, “সালিশি সভার জন্য আত্মহত্যা করেছে কিনা জানি না। তবে সালিশি সভা হয়েছে।”