বিএসএফের বাঁধায় ভারত ভূখন্ডের কাঁটাতারের ওপারে যেতে পারলেন না অভিনেত্রী অপর্ণা সেন

289

কোচবিহার ১৯ অক্টোবরঃ কাঁটা তারের ওপারে থাকা সাবেক ছিটের ভারতীয় নাগরিকদের দূরাবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিশিষ্ট চলচিত্র অভিনেত্রী অপর্ণা সেন। শনিবার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার করলা ২ এলাকা পরিদর্শনে আসেন মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের এক প্রতিনিধি দল। অমানবিক জীবন যন্ত্রনার পাশে দাড়িয়ে সরকার ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তাদের এই উদ্যোগ বলে মাসুমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যদিও অপর্ণা সেনের নেতৃত্বে আসা এই প্রতিনিধি দল বিএসএফের বাঁধায় কাটা তারের ওপারে পৌচ্ছাতে পারেনি।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়েছে ঠিকই। নাগরিকত্বহীন মানুষেরা পেয়েছে তাদের পরিচয়। কিন্তু এখনও নিজ ভূমে পরবাসীর যন্ত্রণা শেষ হয়নি তাদের। স্বভূমেই যেন বিদেশি নাগরিক। সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাটাতারের বেরা দেবার আন্তর্জাতিক নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে সীমান্তের ০ পয়েণ্ট থেকে ৫০০ গজের ভিতরে  রয়েছে এই কাটাতারের বেড়া, কারণ এক সময় করলা ২ ছিটের অবস্থান ছিল এখানে। ছিট থাকার কারণে সেই সময় সীমান্তে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে । কিন্তু ২০১৫-এর ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিট মহল বিনিময় হয়। বর্তমানে করলা ২ সাবেক ছিট, ভারতের মূল ভূখণ্ডেই এর অবস্থান।

এখনকার নাগরিকরা বর্তমানে ভারতীয় হলেও রয়েছে কাটাতারের ওপারে, নির্দিষ্ট সময় মেনে এই নাগরিকদের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে হয়। এর বাইরে নাগরিকদের চলার ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি নিতে হয় বিএসএফের ।

সাবেক ছিটবাসীদের সাথে কথা বলছেন অভিনেত্রী অপর্ণা সেন

এদিন ওই স্থান পরিদর্শন করতে বাঁধা প্রাপ্ত হয় ভারতীয় চলচিত্র জগতের অন্যতম অভিনেত্রী তথা নির্দেশক অপর্ণা সেনও। এইদিন মানাধিকার সংগঠন মাসুমের উদ্যোগে সাবেক ছিটবাসীদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন অপর্ণা সেন, বোলান গঙ্গোপাধ্যায়, মুদার পাথেরিয়া, কিরীটি রায়ের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। কিন্তু তাদের কাটাতারের ওপাড়ে যেতে দেওয়া হয়নি।

সেক্ষেত্রে অবশ্য বিএসএফের উদ্যোগেও কাটাতারের ওপাড়ে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিয়ে আসা হয় সেখানে। অপর্ণা সেনদের মতো ব্যক্তিত্বরা ভারত ভূখণ্ডের একটি স্থানে প্রবেশ করতে না পারায় ক্ষোভ উগ্রে দেন। বিএসএফের বাধায় করলা ২ এলাকায় না জেতে পারলেও সাবেক ছিটবাসীদের সাথেও তাঁরা কথা বলেছেন। নাগরিকদের সাথে কথা বলে তাদের দুঃখ যন্ত্রনার কথা শোনেন এই ব্যক্তিরা।

জানা গেছে প্রায় ৭০ বিঘা জমিতে ১১ টি পরিবার রয়েছে কাটা তারের ওপারে। যেখানে প্রায় ৮০ জন মানুষ বাস করে। স্থলবন্দর চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত উন্নয়নের কোনো পরশ পৌচ্ছেনি সেখানে। ছিট মহল উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ বরাদ্দ হলেও ওই সাবেক ছিট এলাকায় কোনো কাজই হয়নি বলে অভিযোগ। নেই পরিশুদ্ধ পানিয় জল, নেই বৈদ্যুতিক কোনো ব্যবস্থা, চলাচলের পথও তথৈবচঃ। নির্দিষ্ট সময় মেনে এখনও তাদের প্রবেশ করতে হয় ভারতীয় মূল ভূখণ্ডে।

এদিন এ নাগরিকদের সাথে কথা বলে অপর্ণা সেন জানান, ল্যান্ড বাউণ্ডারি অ্যাগরিমেণ্ট লোকসভায় পাশ হলেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলেও জানান। তিনি বলেন, ডিজিটাল ইণ্ডিয়ার এই সময়ে এখনও বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে। এখনকার মানুষেরা যে যন্ত্রণা ভোগ করছে তা আধুনিক সভ্যতায় মানা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।