অবসর নেওয়ার ৮ বছর পরেও ভালোবাসার টানে স্কুলে শিক্ষাদান মাথাভাঙ্গার এক শিক্ষকের

226

বিদ্যুৎ কান্তি বর্মন, ঘোকসাডাঙ্গা: শিক্ষাই পরম ধর্ম, আর এই শিক্ষকতাকে একসময় পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন শিক্ষক তপন দে অধিকার। ভেবেছিলেন শিক্ষাদানের মতো মহৎ কাজ আর হতে পারে না। আর সেই থেকেই শুরু। শিক্ষকতা দিয়েই শুরু করেছিলেন নিজের কর্ম জীবন। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিলেও মন থেকে অবসর নিতে পারেননি। অবসর নেওয়ার পরেও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিক্ষক তপন দে অধিকারী। ভালবাসার টানেই বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষাদান করে চলেছেন তিনি।

জানা যায়, তপন বাবু ১৯৮০ সালে ফুলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। সেখান থেকেই শিক্ষকতা শুরু। দীর্ঘ ৩২ বছর শিক্ষকতা করার পর ২০১২ সালে ফুলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তারপর ২০১৩ সালে সহকারী অতিথি শিক্ষক হিসাবে বালাসুন্দর জুনিয়ার হাই স্কুল এবং ২০১৪ সালে বড়ো শৌলমারি জুনিয়ার হাই স্কুলে যোগদান করেন। সর্বশেষ বড়ো শৌলমারি জুনিয়ার হাই স্কুল থেকে ২০১৭ সালে অবসর নেন। অবসর নিলেও মন থেকে অবসর নেন নি তিনি। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি ভালোবাসা, সেই ভালবাসার টানেই বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষকতা করে চলেছেন তপনবাবু।

তপন বাবু জানান, ‘শিক্ষকতা পেশাটি ভালবাসার। ছাত্র-ছাত্রীদের ভালোবাসা দুষ্প্রাপ্য,এই ভালবাসা কোথাও পাওয়া যাবে না। ভালবাসার টানেই আমি পড়াই। পড়ানোটাই আমার ভলোলাগে। ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আমি থাকতে ভালোবাসি। তাই এখনো স্কুল ছাড়তে পারিনি। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। বাকি জীবনটা এভাবেই ছাত্রছাত্রীদের সাথে কাটিয়ে দিতে চাই।’

বড়ো শৌলমারি জুনিয়ার হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত ভট্টাচার্য বলেন,’স্যার খুব ভালো মানুষ। এমন মানুষ আর আজকাল পাওয়া যায় না। এমন একজন আদর্শ শিক্ষকে পেয়ে আমরা গর্বিত।’ ওপর দিকে ছাত্র-ছাত্রীরা স্যারের ক্লাসে খুবই উৎসাহিগতার সাথে ক্লাস করে তা দেখে খুব গর্ববোধ হয় আমাদের। এলাকাবাসীর অনেকেই বলেন তপনবাবু খুবই নর্ম, ভদ্র একজন আদর্শ শিক্ষক তিনি  ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিগতার মধ্য দিয়ে পড়াশোনা শেখান ওনাকে দেখি সত্যিই অবাক লাগে ফালাকাটা মাদারি রোড থেকে তিনি প্রায় দীর্ঘ চার কিলোমিটার পথ প্রতিদিন সাইকেল নিয়ে যাওয়া আসা করেন যা এখনকার দিনে কেউ করবে না।