বাংলার পর এবার মহারাষ্ট্রের ট্যাবলো খারিজ দিল্লির প্যারড থেকে

71

ওয়েব ডেস্ক, ৩ জানুয়ারিঃ বাংলার পর এবার কেরল ও মহারাষ্ট্র। ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির রাজপথের কুজকাওয়াজে বাতিল মহারাষ্ট্রের ট্যাবলোও। রাজ্য–কেন্দ্র দ্বন্দ্ব আগেই লেগেছিল। এবার কেরল এবং মহারাষ্ট্রের ট্যাবলোও খারিজ করে দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। বেছে বেছে বিজেপি বিরোধী রাজ্যগুলিকেই নিশানা করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের ট্যাবলো খারিজ হয়ে যাওয়ায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ শিবসেনা–এনসিপি–কংগ্রেস জোট। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন বলে দাবি করেছে ‘‌মহা বিকাশ আগাড়ি।’‌ কেন্দ্রের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ারের মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে এই বিতর্কে টুইট করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‌প্রজাতন্ত্র দিবস একটি উৎসব। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার পক্ষপাতদুষ্ট আচকরণ করছে। যে রাজ্যে বিরোধীরা ক্ষমতায় রয়েছে তাদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হচ্ছে।’‌ শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেছেন, ‘‌বাংলার পর মহারাষ্ট্রের ট্যাবলোর প্রস্তাবও খারিজ করে দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী গোটা বিষয়টি দেখুন। এই ঘটনায় কে দায়ী তা খুঁজে বের করতে হবে।’‌ 

উল্লেগ্য , এর আগে বাংলার তরফে তিনটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারকে। যেখানে ‘কন্যাশ্রী’, ‘জল ধরো, জল ভরো’ এবং ‘সেভ গ্রিন, সেভ ক্লিন’-এর প্রস্তাব দিয়েছিল রাজ্য সরকার। অভিযোগ, তিনটি প্রস্তাবই খারিজ করে দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এবার সেই পথে মহারাষ্ট্রের ট্যাবলোও খারিজ হল। শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘মহারাষ্ট্রের ট্যাবলোয় বরাবরই আকর্ষণ থাকে। কংগ্রেসের আমলে যদি এমন হত তবে বিজেপি আক্রমণ করত। এবার কী বলবেন বিজেপি নেতারা?’

১৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় অঞ্চল এবং ছ’‌টি মন্ত্রক ও দপ্তরের ট্যাবলোকে প্যারেডের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। মোট ৫৬টি ট্যাবলোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ৩২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং বিভিন্ন মন্ত্রক ও দপ্তর থেকে আরও ২৪টি প্রস্তাব ছিল। কেন্দ্রীয় সরকার শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে ২২টিকে বেছে নিয়েছে বাছাই তালিকায়। বাদ দেওয়া হয়েছে বাংলা, কেরল ও মহারাষ্ট্রের ট্যাবলো প্রস্তাবকে। এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন মমতা ব্যানার্জি, সুপ্রিয়া সুলেরা। ‌‌‌‌

শিবসেনা তীব্র আক্রমণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। সঞ্জয় রাউত জানান, মহারাষ্ট্রের ট্যাবলোয় এবার সম্মতি দেয়নি কেন্দ্র। জেজে স্কুল অফ আর্টসের পড়ুয়ারা এই ট্যাবলো প্রস্তুত করেছে। তিনি বলেন, ‘বাংলা এবং মহারাষ্ট্র জায়গা পেল না কারণ, দুই রাজ্যেই বিজেপি সরকার নেই। এটি মহারাষ্ট্রের কাছে বড় অপমান।’ তিনি বলেন, ‘আমি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য আবেদন করছি।’