গতকালের পর ফের জেলায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ৬০, মোট আক্রান্ত ১হাজার ৩১৯ জন

178

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাটঃ গতকালের বুনিয়াদপুর আদালতে কর্মরত এক মহিলা পুলিশ অফিসারের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিন দিনাজপুর জেলায় নতুন করে আক্রান্ত আরও ৬০।  এদিনের নতুন আক্রান্ত ৬০ জনকে নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১ হাজার ৩১৯ জন। জেলায় মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৯৪৩ জনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে স্বাস্থ্য দফতরের দাবি।

এদিকে জেলায় নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে। রোজ অন্তত ৪০০ লালা রস সংগ্রহ করে তা মালদা মেডিক্যাল কলেজের টেস্টিং ল্যাবটারিতে পাঠানোর লক্ষ মাত্রা জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তরফে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে। অপরদিকে জেলায় ধারাবাহিক লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য জেলার বিভিন্ন মহলের থেকে দাবি উঠেছিল। সেদিকে লক্ষ রেখেই জেলা স্বাস্থ্য দফতরের সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।

এদিকে রবিবার রাতে মালদা মেডিক্যাল কলেজের ভি আর ডি ল্যাব থেকে জেলা স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানো রিপোর্টে অনুযায়ী যে নতুন করে ৬০ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বালুরঘাট শহরের ১৯ জন রয়েছেন। এছাড়াও বালুরঘাট ব্লকের ৫ জন,  কুশুমন্ডি ব্লকের ৫ জন, বংশীহারি ব্লকের ৬ জন,  বুনিয়াদপুরে ১ জন, হরিরামপুর ব্লকের ১৩ জন,  কুমারগঞ্জ ব্লকের ৬ জন ও গংগারামপুর ব্লকের ৫ জন রয়েছেন। সুত্রে জানা গেছে এদের মধ্যে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার কর্মী, ড্রাইভার, স্বাস্থ্যকর্মী সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, গত ৩১ জুলাই ও ১ অগাস্ট আক্রান্তদের সোয়াব সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য মালদা মেডিকেল কলেজের ভিআরডিএলে পাঠানো হয়েছিল।

অপরদিকে খোদ বালুরঘাট শহরের বিভিন্ন পাড়ায় যে নতুন করে ১৯ জনের করোনা আক্রান্তের হদিস মিলেছে। সেগুলি হলো একেগোপালন কলোনির ৮ জন, বেলতলা পার্ক, কলেজপাড়া অরুন দাস লেন, ঢাকা কলোনী, ডাকবাংলো পাড়া, খাদিমপুর রবিন্দ্রনগর, মঙ্গলপুর পেট্রোল পাম্প, হিলি মোড়, রথতলা, শান্তি কলোনি, উত্তমাশাপল্লী ও উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা বালুরঘাট ডিপোর ১ জন করে সংক্রামিত হয়েছেন।যদিও এর মধ্যে অনেকেরই উপসর্গ দেখা দিলেও কোন পুর্বের ভ্রমনের ঘটনা নেই বলে জানা গেছে। নতুন সংক্রামিতদের সেফ হাউসে এনে তাঁদের চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন মহলে ক্রমশই সক্রমিতের হার বৃদ্ধির বিষয়ে নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাহলে দফায় দফায় লকডাউন থাকা সত্বেও জেলায় কি সক্রমন কম করা গেছে।বরং বেশির দিকে। যদিও নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন,  “” বার বার ঘোষনা করা হলেও সাপ্তাহিক লকডাউনে কড়াকড়ি থাকা সত্বেও কিছু মানুষ নানা অজুহাতে সাইকেল,  বাইকে,  টোটোতে মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন।  আর যেদিন লকডাউন থাকে না সেদিন গুলো  তো বাধনহারা মনোভাব। আর তার ফলে এই অবস্থ্যায় গিয়ে দাড়িয়েছে “,  বলে তিনি মন্তব্য করেন।