ফের মুখোমুখি রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী, চলল আলাপচারিতা

115

নিজস্ব প্রতিবেদন, ২৬ জানুয়ারিঃ এক শীতের সকালে দেখা হলো দু’জনায়! বহু ঝগড়া ঝাটির পর ফের মুখোমুখি রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী। এই দেখা হওয়ার সম্ভাবনাতা নিয়েই তীব্র জল্পনা চলছিল গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে৷

সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ এবং বিকেলে রাজভবনের চা-চক্র নিয়ে রাজ্যের তথ্য-সংস্কৃতি সচিব বিবেককুমারের সঙ্গে দিনদুয়েক আগে রাজ্যপালের দীর্ঘ আলোচনার পর যা ইঙ্গিত মিলেছে, তাতে নতুন করে কোন বিতর্ক চাইনি কোনো পক্ষই। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সাধারণতন্ত্র দিবসে একবার নয়, দু-দুবার ধনকড়-মমতা মুখোমুখি হবেন। ইতিমধ্যেই সকালে কুচকাওয়াজে দেখা হয়েছে দুজনের। বিকেলে রাজ্যপালের চা-চক্রে মুখ্যমন্ত্রী যদি যান তাহলে ফের হবে সৌজন্য সাক্ষাৎ। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবন যাবেন বলেই এখনো পর্যন্ত প্রশাসন সূত্রে খবর।

প্রতি বছর যেমন হয়, তেমনই এবারের ২৬ জানুয়ারিও সকালে রেড রোডে রাজ্য সরকার ও সেনাবাহিনীর যৌথ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান হয়৷ রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে সেই অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ করেন রাজ্যপাল। প্রথা অনুযায়ী, রাজ্যপালের অভিবাদন মঞ্চে আসার আগেই সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তাদের৷ রাজ্যপালকে স্বাগত জানাতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে। অনুষ্ঠান শেষে ফের রাজ্যপালকে বিদায়ও জানাতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকেই। আর সেই প্রথা একেবারে অক্ষরে অক্ষরে মানলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপালের স্ত্রীর সঙ্গেও এদিন বাক্যালাপ করতে দেখা যায় তাঁকে। এরপর ফের বিকেলে দু’জনের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রাজভবনে। এই দিনে রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রীসহ বিশিষ্টদের চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন রাজ্যপাল৷ বিকেলের এই অনুষ্ঠানেও রাজ্যপাল আসার আগে পৌঁছে যেতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজ্যপাল বিদায় নেওয়ার পর রাজভবন ছাড়তে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে।

জানা গিয়েছে, যত বিতর্কই থাকুক, এবারেও এই দুই অনুষ্ঠানে প্রচলিত বিধির কোনও বদল ঘটছে না৷ রাজ্যপালের তরফে চা-চক্রের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ ঠিক সময়েই পৌঁছে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে৷ সাংবিধানিক বাধ্যকতার কারণেই ২৬ জানুয়ারির একটি কর্মসূচিও এড়াতে পারবেন না মুখ্যমন্ত্রী। তেমন ঘটলে, মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিকে হাতিয়ার করতে পারে বিরোধীরা৷ সেই সুযোগ মুখ্যমন্ত্রী কাউকেই দিচ্ছেন না বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।