ফের ভালবাসার টানে সিতাইয়ে প্রেমিকার বাড়ির সামনে ধর্না প্রেমিকের

2552

সিতাই, ২৪ ডিসেম্বরঃ দীর্ঘ আড়াই বছরের ভালবাসায় ধোকা খেয়ে প্রেমিকার বাড়িতে হাজির প্রেমিক। ঘটনাটি ঘটেছে সিতাই থানার অন্তর্গত বোরথর এলাকায়। ওই ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করে ওই প্রেমিকার বাড়ির সামনে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে সিতাই থানার পুলিশ। ওই যুবককে ধর্না থেকে তোলার জন্য বারবার চেষ্টা করছে পুলিশ বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সিতাই ব্লকের নেতাজী বাজার সংলগ্ন ডাউয়াগুড়ি এলাকার চিরঞ্জিত বর্মণ নামে ওই প্রেমিক যুবক সিতাইয়ের বোরথর এলাকার এক প্রেমিকার সঙ্গে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে ভালবাসায় লিপ্ত হয়ে পরে। তারা এই কয়েক বছর ধরে সিতাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছে। এবং তারা দুজনে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করেছে। কিন্তু তাদের দুজনের সম্পর্কের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ওই প্রেমিকার বাবা-মা। তারা মেয়ের জন্য সম্বন্ধ দেখতে শুরু করে এবং মেয়েকে বোঝায় চিরঞ্জিতের চেয়ে ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী ছেলের সাথে তার বিয়ে দেবে। তারপর চাপ দিতে থাকে চিরঞ্জিতকে ভুলে যাওয়ার জন্য। পরে সে তার প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

অভিযোগ, গত কয়েকমাস ধরে চিরঞ্জিতের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় তার প্রেমিকা। পরে চিরঞ্জিত তার প্রেমিকা ও পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে জানতে পারে তার সাথে প্রেমিকার বিয়ে দেওয়া সম্ভব না। কারন ওই প্রেমিকার বাবা-মা জানান যে ভাল ব্যবসায়ী বা চাকরীজীবী দেখে মেয়ের বিয়ে দেবেন। সেই কারনে চিরঞ্জিতের সাথে বিয়ে দেবেন না। ওই কথা চিরঞ্জিত জানতে পেরে তার আড়াই বছরের ভালবাসা ফিরে পেতে ১৫ জন বন্ধু নিয়ে প্রেমিকার বাড়িতে ধর্নায় বসেন। ওই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে না পড়তে স্থানীয় লোকজনের ভিড় জমতে শুরু করে। পরে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে সিতাই থানার পুলিশ। সেখানে পুলিশ এসে ওই যুবকের সাথে কথা বলে ও প্রেমিকার বাড়ির লোকের সাথে কথা বলে। ওই যুবতীর পরিবারের লোকজন চিরঞ্জিতের পরিবারের সাথে কথা বলে মিটমাট করতে চায় বলে জানা গেছে খবর লেখে পর্যন্ত।

চিরঞ্জিতের এক বন্ধু শ্যামল মালি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে মেয়েরা প্রেম বা ভালবাসাটাকে একটা ব্যবসা বানিয়ে ফেলেছে। তা না হলে একটি মেয়ে ৪-৫ জন ছেলের সাথে কি করে প্রেম করে। তাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে ভালবাসার অভিনয় করে এবং ছেলেদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। আমরা চাই ওই মেয়ের সাথে চিরঞ্জিতের বিয়ে হোক না হয় ওই মেয়ের শাস্তি হোক।

যদিও এবিষয়ে চিরঞ্জিত বর্মণ বলেন, আমি আড়াই বছর থেকে ওকে ভালবাসি। ওর বাড়ির লোকজন সবই জানে। দুই বছর থেকে আমি ওর পড়াশুনার খরচ বহন করেছি। তার পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে তার সাজসজ্জার বিভিন্ন জিনিসপত্র তাকে কিনে দিয়েছি। তাই আমি ওকে মন থেকে সত্যিই খুব ভালবাসি ও আমাকে ভালবাসে। তাই ওকে আমি বিয়ে করতে চাই। এর মাঝে ওর বাবা-মা ওকে চাপ দিচ্ছে এবং আমার সমন্ধে ওকে ভুল বোঝাচ্ছে। সেই কারনে ও আমার সাথে যোগাযোগ পর্যন্ত বন্ধ করছে। তাই বাধ্য হয়ে আমি আজ তার বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছি।