বিজেপি কর্মীর আঙুল কেটে নেওয়ার তৃনমূলের বিরুদ্ধে, উত্তেজনা ভেটাগুড়ি

1734

দিনহাটা, ২ নভেম্বরঃ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিজেপি কর্মীকে মারধোর করে আঙুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ তৃনমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে দিনহাটা ১ নং ব্লকের ভেটাগুড়ি ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কাশিগঞ্জের ঘাট সংলগ্ন এলাকায়। ওই ঘটনার জেরে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে সুধীর মণ্ডল নামে এক বিজেপি কর্মীকে অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়রা আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে কোচবিহারের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন দিনহাটা থানার পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। 

বিজেপির অভিযোগ, গতকাল রাতে তৃণমূল আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতীরা মুখে কাল কাপড় বেঁধে ভেটাগুড়ির কাশিগঞ্জের ঘাট এলাকায় জমায়েত হয়। তারপর সুধীর মণ্ডল নামে ওই বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আটক করে মারধোর করে ও তার একটি হাতের আঙুল কেটে নেয় বলে অভিযোগ। কারন তারা সম্প্রতি বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন। তারপর ১৫ দিন যেতে না যেতে আবার তারা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। সেই কারনে তাদের সেখানে পেয়ে মারধোর করে বলে অভিযোগ। তৃনমূলের পাল্টা অভিযোগ, সাংসদ নিশীথ প্রামানিক ও দেহরক্ষীরা সহ বিজেপির কর্মী সমর্থকরা তৃনমূলের ৮টি বাড়ি ঘর ভাঙচুর করেন।

আক্রান্ত সুধীর মণ্ডলের মেয়ে তথা ভেটাগুড়ি ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা ববিতা বর্মণ বলেন, “আমরা নিশীথ প্রামানিক হাত ধরে গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা হয়েছি। তারপর যখন নিশীথ প্রামাণিক বিজেপিতে যোগদান করে লোকসভায় প্রার্থী হন তখন আমরা বিজেপিতে যোগদান করি। তারপর তৃনমূলের নেতারা আমাদের বলে উন্নয়ন বন্ধ রাখলে হবে না, তোমরা আমাদের দলে এসো কাজ কর্ম কর। তাতে সকলের ভাল হবে। তারপর আমরা সকল পঞ্চায়েত সদস্যরা আবার তৃনমূলে যোগদান করি। গত ৩১ অক্টোবর আমরা নিশীথ প্রামানিকের কাছে আশ্বাস পেয়ে আমরা বিজেপিতে যোগদান করি। গতকাল রাতে আমার বাবা বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় তৃনমূলের দুষ্কৃতীরা আটক করে মারধোর ও আঙুল কেটে নেয়। আমরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছি বলেই আজ আমার বাবাকে মারধোর ও আঙুল কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।”

তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর বাড়ি ভাঙচুরের ছবি

এবিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে দিনহাটা ১নং ব্লকের কনভেনার বিশ্বনাথ দে আমিন বলেন, “এটা মিথ্যে অভিযোগ। বিজেপির কাছ থেকে সড়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাই তৃণমূলকে কালিমালিপ্ত করার জন্য বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিক চক্রান্ত করছে। তা নাহলে একজন সাংসদ ও তার সি আই এস এফ কর্মীরা রাত ১২ টায় গিয়ে কাশিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তৃনমূল কংগ্রেসের ৮টি বাড়িতে ভাঙচুর করেন কি করে। তাই ওই এলাকায় বিভেদের রাজনীতি করার চেষ্টা করছে বিজেপি। মানুষ আমাদের পাশে আছে, বিজেপি যতই তৃনমূলের নামে বদনাম করার চেষ্টা করুক তাতে কোন লাভ হবে।”

এবিষয়ে কোচবিহার সাংসদ নিশীথ প্রামানিক বলেন,“তৃনমূল এলাকা দখলের জন্য পুলিশ ও সিভিক ভোলেন্টিয়ারকে ব্যবহার করে ভেটাগুড়ির পরিবেশ উত্তপ্ত করছে যা কাম্য নয়। গতকালের ঘটনায় আমাদের এক কর্মী গুরুতর আহত হয়। সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে তৃনমূলের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কারন বিজেপি কোনদিন এই ধরনের রাজনীতি করে না। আমরা চাই ভেটাগুড়ি সহ কোচবিহার জেলা জুড়ে শান্তির পরিবেশ বজায় থাকুক।”

আক্রান্ত বিজেপি কর্মী

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ভেটাগুড়ি ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের সাত সদস্য দিলিপ বর্মণ, বর্না ঘোষ, কাকলি মোদক, সুষমা বর্মণ, ববিতা মণ্ডল, যতীন্দ্রনাথ বর্মণ ও প্রভাতচন্দ্র দাস ফের বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় ১০ আসন বিশিষ্ট এই পঞ্চায়তেটি ফের বিজেপির দখলে গেল। যদিও এই গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ছোরাব আলী তৃনমূলেই ছিলেন আগাগোরা তিনি কখনই বিজেপিতে যোগ দেননি। অপরদিকে প্রধান রতন বর্মণ ও সুমিতা বর্মণ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে সে দলেই রয়ে যান।

সম্প্রতি এই পঞ্চায়েতের সাত সদস্য বিজেপি ছেড়ে তৃনমূলের হাত ধরে ছিল। বারবার দল পরিবর্তনের এই বিষয়টি নিয়ে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য যতীন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, বিভিন্ন ধরণের ভয় ভীতি দেখাবার কারনে আমরা তৃনমূলে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বর্তমান সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের উদ্যোগেই আমরা এই গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য হেয়েছি। তাকে ছেড়ে যাওয়ার বাসনা আমাদের কখনই ছিল না। তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির সাংসদ হওয়ার পরও আমরা তাঁর সাথে ছিলাম।

কাশিগঞ্জের ঘাটে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়ির ভাঙচুরের ছবি

কিন্তু তিনি সংসদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পরায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারনেই এই ঘটনা ঘটে ছিল। এই দিনেই ফের তৃণমূল সঙ্গ ত্যাগ করে সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের হাত থেকে বিজেপি পতাকা গ্রহণ করে ওই সাত সদস্য। এরপর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯ সদস্য-সদস্যাদের গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় গিয়ে কাজ শুরু করেন। এইদিন সাংসদ নিজেই তাদের ওই কার্যালয়ে পৌচ্ছে দেন। তারপরেই শুক্রবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেস–বিজেপির সংঘর্ষ ঘটে। তাতে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হয়। তারপর বিজেপি পাল্টা আক্রমণে তৃনমূলের প্রায় ৮টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।