নতুন বছরের জুন মাসের মধ্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে এয়ার ইন্ডিয়া

87

ওয়েব ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বরঃ এয়ার ইন্ডিয়া নিয়ে কোনও সুদৃঢ় সমাধান পথ না বের করতে পারলে ২০২০ সালের জুন মাসেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে এয়ার ইন্ডিয়া। এমনই আশঙ্কাবাণী শোনালেন এয়ার ইন্ডিয়ারই এক শীর্ষ আধিকারিক। এর আগে সরকারের পক্ষে বলা হয়েছিল যে এয়ার ইণ্ডিয়ার বেসরকারিকরণ করা না হলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে সংস্থার পরিষেবা।

সংসদে শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন এক সংবাদ মধ্যমে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী রাজ্যসভায় বলেছিলেন, বেসরকারীকরণ না করা হলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বিমান সংস্থা এয়ার ইণ্ডিয়ার পরিষেবা। যদিও ওই সংস্থার কর্মচারীদের জন্য বিকল্প একটি চুক্তির কথাও বলেন তিনি।

সূত্রের খবর, ২০২০ সালের মধ্যে এয়ার ইণ্ডিয়ার সম্পূর্ণরূপে বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। অন্যদিকে, আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়াকে বিক্রি করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। বিগত কয়েকমাস ধরেই প্রচণ্ড টানাপোড়েন চলছে জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ায়। প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকার ও বেশি ঋণ বহন করে ক্ষতির মধ্যে দিয়ে চলছে এয়ার ইন্ডিয়া। এই অবস্থা এয়ার ইন্ডিয়াকে পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে পুরো ১০০ শতাংশই শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। ২০১৮-১৯ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার প্রায় ৮,৫৫৬.৩৬ কোটি টাকা নেট লোকসান হয়েছে।

জানা গেছে, গত কয়েকমাস ধরে ঋণের বোঝায় ধুঁকতে থাকা এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মীরা নিয়মিত তাঁদের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই প্রবল অনিশ্চয়তার পরিবেশে বীতশ্রদ্ধ সংস্থার কর্মীরাও। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের ওপরে চাপ সৃষ্টির জন্য সাধারণ ধর্মঘট ডাকার চিন্তাভাবনা করছেন তাঁরা।

সম্প্রতি মুম্বইয়ে বৈঠকে বসেছিল এয়ার ইন্ডিয়া স্বীকৃত কর্মী সংগঠনগুলি। জেট এয়ার ওয়েজের বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের আনতে না পারার ফলে ২০২০ অর্থবছরে ভারতীয় বিমান পরিষেবায় প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে বকেয়া অর্থের দাবিতে গণ ইস্তফার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এয়ার ইন্ডিয়ার ৮০০ পাইলট।