কোচবিহারে শাসক দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বদের দেখে অফিস ছাড়লেন জেলা শাসক

1202

কোচবিহার, ২৫মেঃ নির্বাচন পরিবর্তী রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিতে গেলে বিজেপি নেতৃত্বদের দেখেই কোচবিহারের জেলা শাসক পবন কাদিয়ান অফিস ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ বিকেলে কোচবিহার জেলা শাসকের সাথে দেখা করে স্মারকলিপি দিতে যান বিজেপির কোচবিহার জেলা সভানেত্রী তথা বিধায়ক মালতি রাভা, বিধায়ক মিহির গোস্বামী, নিখিল রঞ্জন দে সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতৃত্ব।

অভিযোগ, জেলা শাসকের ঘরে যেতেই আগাম না জানিয়ে আসার কথা তুলে ধরে সময় দিতে পারবেন না বলে তিনি অফিস ছেড়ে চলে যান। এরপর বিজেপি প্রতিনিধিরা বাইরে বেরিয়ে এসে সংবাদ মাধ্যমের কাছে ওই অভিযোগ তুলে ধরেন।

মালতি রাভা অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বিজেপি কর্মীরা খুন হচ্ছেন, গতকালও শীতলখুচিতে একজন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। কোথাও চাঁদার জুলুম চলছে, কোথাও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হচ্ছে। বাইরের রাজ্যে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে। থানা গুলোতে বলেও কোন কাজ হচ্ছে না। তাই জেলা শাসকের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। কিন্তু উনিও দেখা করলেন না। অফিস থেকে উঠে বের হয়ে গেলেন। তাহলে বুঝুন রাজ্যের প্রশাসন কি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছে। বিধায়কদের সাথে দেখা করছেন না জেলা শাসক। এটা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।“ যদিও বিজেপির ওই অভিযোগ নিয়ে জেলা শাসকের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

অন্যদিকে শীতলখুচির বিজেপি কর্মী খুন হওয়ার ঘটনায় এদিন সকালেই তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায় বলেন, “শীতলখুচির ছেলেটি বিজেপি করে কিনা, জানি না। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করছে। যদি খুন হয়ে থাকে, তাহলে নিশ্চয় পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিজেপি এই মহামারির সময়েও বিশৃঙ্খলা তৈরি করার জন্য মৃত্যু নিয়ে অযাথা রাজনীতি করছে।”

নির্বাচন পরবর্তী হিংসার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি রাজ্যপালও কোচবিহারে এসেছিলেন। তিনি বিজেপির সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে সাথে নিয়ে কোচবিহার জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের সাথে দেখা করেন। নির্বাচন পরবর্তী হিংসা দেখে তাঁকে আবেগপ্রবণ হতেও দেখা যায়। রাজ্য প্রশাসন কোন ভূমিকা পালন করছে না বলে অভিযোগও করেন তিনি। রাজ্যপালের ওই কোচবিহার সফরের পর এদিন ফের কোচবিহারের বিজেপি নেতৃত্ব ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে সরব হয়ে উঠলেন। কিন্তু এদিন সন্ত্রাস বন্ধ করার দাবিতে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে জেলা শাসকের সাথে তাঁদের এই বিরোধের পর বিজেপি নেতৃত্ব এখন কোন পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।