চরম আর্থিক সংকটের মুখে কোচবিহার রাসচক্রের নির্মাতা আলতাফ

688

মনিরুল হক্‌, কোচবিহারঃ ‘ঘরেতে অভাব তাই পৃথিবীটা মনে হয় কালো ধোঁয়া’ তবুও….. আজও হরিণচওড়ার তোর্সা পারে আলতাফ নির্মাণ করে যায় রাসচক্র। এই চক্রকে ঘুরিয়ে মানুষের পূর্ণাজন হয় বলে বিশ্বাস। ১৮১২ সনে কোচবিহারের মহারাজা হরেন্দ্র নারায়ণ তার রাজধানী ভেটাগুড়িতে স্থানান্তর করার সময় রাস যাত্রার আয়োজন করেছিলেন। সে থেকে কোচবিহারে রাস উৎসব হয়ে আসছে। রাসযাত্রার মূল বিষয় রাসচক্র। বাঁশ, কাঠ, কাগজ দিয়ে তৈরি হয় এই চক্র। বংশ পরমপরায় এই চক্র নির্মাণ করে আসছেন আলতাফ মিঞা।

কোচবিহার ১ নং ব্লকের হরিণচওড়া এলাকার তোর্সার পারে ভাঙা ভাঙা বাড়িতে ভরা সংসার নিয়ে বাস করেন আলতাফ। কোচবিহার দেবত্র ট্রাষ্ট বোর্ডের অস্থায়ী কর্মী আলতাফ। নুন আনতে পান্তা ফুঁড়ায় অবস্থা সংসারের। তাই রাসচক্র নির্মাণেও তেমন আগ্রহ নেই আলতাফের উত্তরপুরুষদের। যার নির্মাণে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাসমেলার সময় কালে ভিড় করে কোচবিহার মদনমোহন বাড়িতে।

যে চক্র ঘুরিয়ে হয় পূর্ণাজন যিনি এই নির্মাণ করে সংহতির বার্তা দেন সেই আলতাফের ঘরেই যেন ঘন অন্ধকার। আর্থিক দৈন্যতা গ্রাস করছে তাকে। সে ভাবে জুটছে না শিল্পীর সম্মান। নিজস্ব জমিতে স্থায়ী কোনো আস্থানা জোটে নি এখনও তার। সামান্য সম্মান দক্ষিণায় কোচবিহার দেবত্র ট্রাষ্ট বোর্ডের আস্থায়ী কর্মী হিসাবে কাজ করে আসছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। তবুও ঐতিহ্য ও পরমপরা রক্ষায় আজও রাসচক্র নির্মাণ করে যাচ্ছেন তিনি।   

লক্ষ্মী পূর্ণিমার দিনে রাসচক্রের কাজ শুরু করলেন আলতাপ মিঞা

এদিন এবিষয়ে আলতাফ মিঞা বলেন, “দীর্ঘ ১৪ বছর থেকে আমি সেখানে অস্থায়ী ভাবে কাজ করি। তাতে যা সম্মান দক্ষিনা পাই তা দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। আর্থিক দৈন্যতাকে সাথে নিয়ে আমি এখনও এই কাজ করে আসছি। এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে আমার আবেগ। কারন যেহেতু আমার পূর্ব পুরুষেরা এই নির্মাণ কর্ম করেছেন। কিন্তু পরমপরা মেনে আমার উত্তর পুরুষরা একাজ করবে কিনা তা নিয়ে আমার মধ্যে সংশয় রয়েছে।”

রাসচক্র নির্মাণে ব্যস্ত আলতাপ মিঞা

তবে এবারও নিয়ম মেনে কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমায় উপোস থেকে রাসচক্র তৈরি করতে শুরু করেছেন। এই রাসচক্র নির্মাণের কাজ চলবে দীর্ঘ এক মাস ধরে। এই টানা সময় তিনি নিরামিষ আহার করবেন।

এবিষয়ে কোচবিহার সদর মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল বলেন, “নিয়ম মেনে এবছর রাস চক্রের কাজ শুরু হয়েছে। যা বংশ পরম পরায় করে আসছেন আলতাপ মিঞা। তিনি যে তার আর্থিক সংকটের বলছেন, সে বিষয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।”