অ্যাম্বুল্যান্স আটকেছি, আবার আটকাবঃ দিলীপ ঘোষ

942

কৃষ্ণনগর, ৭ জানুয়ারিঃ মঞ্চে বক্তব্য রাখছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মঞ্চের সামনে হাজার হাজার ভিড়। রাস্তা ছেড়ে দিতে, ক্রমাগত হর্ন বাজিয়ে যাচ্ছে একটি অ্যাম্বুল্যান্স। তবু কোনওভাবেই ছাড়া হল না রাস্তা। উলটে দিলীপ ঘোষ বললেন, ‘এখান দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। লোকে রাস্তায় বসে আছে। ডিসটার্ব হবে। ঘুরিয়ে অন্য দিক দিয়ে যান।’ ঘটনা নদীয়ার কৃষ্ণনগরের। সেখানে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে সভা করছিলেন দিলীপ ঘোষ। কৃষ্ণনগরে পুরভোটের আগে জমায়েত দেখে খুশি গেরুয়া শিবিরের নেতারা। তবে অ্যাম্বুল্যান্স-বিতর্কে অস্বস্তি রাজ্য বিজেপি-তে!
আবারও ওই অ্যাম্বুল্যান্স আটকে পরার ঘটনা নিয়ে বিতর্কে জড়ালেন তিনি। বললেন, “অ্যাম্বুল্যান্স আটকেছি, আবার আটকাব।” এদিন শুরু থেকেই পথ আটকে সভা চলছিল তাঁর। ফলে রাস্তায় আটকে পড়ে একটি অ্যাম্বুল্যান্স। ভিতরে রোগী থাকা সত্ত্বেও যাওয়ার জায়গা দিল না কেউ। বরং অ্যাম্বুল্যান্সের চালককে নির্দেশ দেওয়া হয় অন্য অনেক পথ ফাঁকা রয়েছে সেখান থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক অ্যাম্বুল্যান্সকে। এই বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার কৃষ্ণনগরে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সভার সামনে।
সভা চলার ফলে যানজট পূর্ণ রাস্তা পেরোতে না পারায় হর্ন মারতে থাকেন অ্যাম্বুল্যান্সের চালক। অ্যাম্বুল্যান্স আটকে পড়ার ঘটনাটি নজরে আসে দিলীপ ঘোষেরও। তা সত্ত্বেও অ্যাম্বুল্যান্স যাওয়ার জন্য রাস্তা করে দেওয়ার কোনও উদ্যোগ তিনি নেননি। বরং তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলতে থাকেন, “এখান দিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। লোকে রাস্তায় বসে রয়েছে। ডিসটার্ব হয়ে যাবে। ঘুরিয়ে অন্যদিক দিয়ে নিয়ে যান।”
এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটার পরই ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নানান প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় রাজ্য সভাপতিকে। এমন সময় আবার বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। রাজ্য সভাপতি বলেন, “এসব বাজে বিষয়ে তাঁর কথা বলার সময় নেই।” তিনি আরও বলেন, “এ রাজ্যে অ্যাম্বুল্যান্সে করে নেশার দ্রব্য পাচার করা হয়। সভা বানচাল করতে ওই এলাকায় ফাঁকা অ্যাম্বুল্যান্সটি পাঠানো হয়েছিল।”
তবে সকলে তাঁর এই মন্তব্য মানতে নারাজ। তাঁদের মতে অ্যাম্বুল্যান্সে সেই সময় রোগী ছিল এবং তিনি এই কাজটি জেনে শুনেই করেছেন। আর এখন সাফাই দিচ্ছেন।