পশ্চিমবঙ্গে এনআরপি চালু করার জন্য মমতার কাছে আবেদন অমিতের

508

ওয়েব ডেস্ক, ২৫ ডিসেম্বরঃ এনআরপি করুন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝাতে চায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।

ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার ঘিরে অচলাবস্থা কাটাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলতে চান অমিত শাহ। গতকাল তেমনই ইঙ্গিত অমিত শাহের কথায়। জানা গেছে, এনপিআর নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনওভাবেই বাংলায় তিনি কেন্দ্রের জনগণনা প্রক্রিয়া চালু করবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন। ঘটনার জেরে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে যাতে বাংলাতেও এনপিআর কার্যকর করা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা করবেন অমিত শাহ।

উল্লেগ্য, দিনকয়েক আগের হুঁশিয়ারি নেমে এল আবেদনে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও এনআরসি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও। এমনকী সিএএ-র বিরোধিতা করতে গিয়ে রাজ্যে এনপিআর-এর কাজও বন্ধ করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশজোড়া বিক্ষোভ আর বিরোধীদের প্রবল চাপের মুখে এবার সুর নরম করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পিনারাই বিজয়নকে এনপিআর নিয়ে আবেদন জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বিরোধিতায় খানিকটা হলেও বিপাকে কেন্দ্রীয় সরকার। আর তাই সমাধানসূত্র বের করতে এবার আলোচনার পন্থা নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যে কোনওরকম ভুল বোঝাবুঝি আলোচনার মাধ্যমেই দূর করা যাবে বলে আশাবাদী অমিত শাহ। এই আইন নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রকে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে পথে নেমেছে কেন্দ্র-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এই আইনের প্রতিবাদে শুধু রাজনৈতিক দল নয়, আন্দোলনে পথে নেমে এসেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্র ও যুব সমাজ। রাজধানী দিল্লি-সহ প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়ে দেশের একাধিক রাজ্যে। গত কয়েকদিনে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে একাধিক রাজ্যে চলে তাণ্ডব। আন্দোলনের নামে চলা তাণ্ডবের জেরে কয়েকশো কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি নষ্টও হয়। একাধিক রাজ্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়। মঙ্গলবার এক সংবাদ মাধ্যমে অমিত শাহ বলেন, ‘এনআরসি-র সঙ্গে এনপিআর-এর কোনও সম্পর্ক নেই। এনপিআর জনসংখ্যার পরিসংখ্যান, আর এনআরসিতে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হয়। এনপিআরের তথ্য এনআরসিতে ব্যবহার করা হবে না।’ আর সাধারণ গরিব মানুষ যাতে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে, সেই কারণে এনপিআর-এর কাজ চালানো জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন অমিত শাহ। তিনি আরও জানান সারা দেশের অনেক অংশের তুলনায় বাংলায় সিএএ বিরোধী হিংসা অনেক কম হয়েছে।