কোচবিহারে তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ

208

কোচবিহার, ৪ ফেব্রুয়ারিঃ রাজ্যের বামেদের সময়কালে তাদের ভ্রান্ত শিল্পনীতি এবং শ্রম নীতির কারণে হারিয়ে গেছে অনেক কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্প। এক সময় এই বাংলার মানুষ যে শিল্পকে নিয়ে গর্ব করত, যে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিও পরিচালিত হত সেটা হল প্রাচীনতম তাঁতশিল্প। আধুনিক এই সময়ে এই শিল্পের অবস্থা যেন মৃত প্রায়। এক সময় কোচবিহার জেলার রুনিবাড়ি, বাবুরহাট, পেস্টারঝার, কলেরপার, দাউয়াগুড়ি, চকচকা, দিনহাটার বড়নাচিনা, ঝুরিপাড়া, বাবুপাড়া, তুফানগঞ্জের বলরামপুর, দেওচড়াই, নাটাবাড়ি, মাথাভাঙার নিশিগঞ্জ, রুইডাঙ্গা সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই শিল্পের কদর ছিল ব্যপক।ঘরে বসেই তৈরি হত গামছা, শাড়ি।

তাঁত শিল্পীদের একটা ভালো রকমের রোজগারের পথও ছিল, কিন্তু এসব আজ অতীত। সময়ের বিবর্তনের আজ অনেকটাই হারিয়ে গেছে এই তাঁত শিল্প।ফের এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং তাঁত শিল্পীদের এই শিল্পের প্রতি পুনরায় আকৃষ্ট করা ও এই শিল্পের সাথে তাদেরকে পুরোপুরিভাবে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হলো কোচবিহার জেলা শাসকের দপ্তরে। এদিনের এই বৈঠকে জেলা শাসক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, অনগ্রসর কল্যাণ বিভাগের মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।

এদিনের এই বৈঠক শেষে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, রাজ্যের বিগত সরকারের আমলে চরম অবহেলার শিকার হতে হয়েছে এই তাঁত শিল্পীদের। তাই সংশ্লিষ্ট এই পেশার থেকে নিজেদের অন্য পেশায় নিযুক্ত করেছেন বৃহৎ অংশের তাঁত শিল্পীরা। রাজ্যে মা-মাটি-মানুষের সরকার আসার পর এই তাঁত শিল্পের সাথে যুক্ত তাঁতী ভাইদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সামনে নিয়ে এসেছে সরকার।

তাদেরকে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁত শিল্পের বিভিন্ন সরঞ্জাম দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই কাজে তাদেরকে উৎসাহ প্রদান করে চলেছে সরকার। বর্তমানে এই শিল্পকে আবার পূর্বের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্যের বর্তমান সরকার। বসে যাওয়া তাঁত শিল্পীদের ফিরিয়ে আনা এবং কোচবিহারের তাঁত শিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ এলাকা গুলি বেঁছে নিয়ে, ওই সব  বিভিন্ন এলাকায় আবার তাঁতশিল্পের পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে এদিনের সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শীঘ্রই এই তাঁত শিল্পের পুনরুজ্জীবনের জন্য কাজ শুরু করা হবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলে জানান তিনি।