মায়ের কাছে ২২৫-২৩০ আসন চাইল অনুব্রত মণ্ডল

269

বীরভূম, ২৬ অক্টোবরঃ প্রতি বছরের মতো এবছরেও বীরভূম জেলার বোলপুরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে কালীপুজোর আয়োজন করা হয়েছে সাড়ম্বরে। যদিও এই পুজোর মূল উদ্যোক্তা অবশ্য তৃনমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি কেষ্ট ওরফে অনুব্রত মণ্ডল।

বোলপুরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডলের এই কালীপুজো হার মানাতে পারে কলকাতার নামিদামী পুজোকেও। রাজনৈতিক প্রচার থেকে পুজো-আচ্চা সবটাই তিনি করেন তাঁর নিজস্ব ঢঙে।কালী পুজোতেও তার ব্যতিক্রম হল না।

বোলপুরে প্রায় কোটি টাকার ব্যয়ে তৈরি ঝাঁ চকচকে তৃনমূলের দলীয় কার্যালয়ে উপরে উঠতেই বাঁ দিকে পড়ে এই কালী মন্দির। প্রতি বছর সেইখানেই কালীপুজো করে আসছেন অনুব্রত মণ্ডল সহ একাধিক তৃনমূলের কার্যকর্তারা। আর সেখানেই প্রতি বছরের মতো এবছরেও প্রতিমাকে সোনার গয়নায় একেবারে মুড়ে দিলেন অনুব্রত মণ্ডল।

এবছর প্রতিমাকে ২৬০ ভরি গয়না পড়ানো হলেও ছবিটা দেখা গেল সম্পূর্ণ আলাদা। অন্য বছরে অনুব্রত মণ্ডল নিজের হাতে প্রতিমাকে গয়না দিয়ে সাজালেও এই বছর তিনি নিজে বসে থেকে গহনা পড়ালেন। মুকুট, হাতেরবালা, চূড়, বাউটি, বাজুবন্ধ, নেকলেস, হার সবই রয়েছে গয়নার তালিকায়।

কিন্তু কেন অনুব্রতবাবু নিজের হাতে মায়ের মূর্তিতে গহনা পড়ালেন না ? এই বিষয়ে তিনি জানান,“আমার মা মারা গেছে। এখনো এক বছর হয়নি। আমার ঘরের দূর্গা পুজোতেও ঢুকিনি। আর কালী পুজোতেও ঢুকবো না। তাই আমি বাইরে বসে আছি। ওনারাই মাকে নিজের হাতে গহনা পড়িয়ে সাজালেন। আর মাকে যে নৈবেদ্য করলেন সেটা ওনারাই ব্রাহ্মণ দিয়ে করালেন।”

এদিন তিনি আরও বলেন, “মা সুন্দর ভাবে সেজেছে। মার কাছে যা চাইবে তাই পাবে। আমি আশা করি, মা ২১ এর বিধানসভায় ২২৫-২৩০ সিট যেন হয়। মা আমার কথা অবাধ্য করে না। আর অবাধ্য হওয়ার উপায় নাই। অবাধ্যতা তো মায়ের কাছে শুনবো না। তাকে ২২৫-২৩০ সিট’ই করতে হবে গোটা রাজ্যে। মা যা চাইবে তাই পাবে।” এইখানে এই কালীপুজো হয় ষোড়শ উপাচারে পঞ্জিকা মেনেই। সারা দিন উপোস থেকে রাতে পুষ্পাঞ্জলি দেন কেষ্ট।

তৃনমূলের বীরভূম জেলা সহ-সভাপতি রানা সিংহ বলেন, “আমাদের জেলা সভাপতির উদ্যোগে প্রত্যেক বছর আমাদের পার্টি অফিসে কালী পুজো হয়। আমাদের জেলা কমিটি, বীরভূম জেলা কমিটি তার সঙ্গে আউশগ্রাম, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোটের সকল তৃনমূল নেতৃত্ব এখানে এই পুজোয় আসেন। এটা এখন নয়। এই পুজো গত প্রায় ৪০ বছর ধরে অনুব্রত মণ্ডল করে আসছেন।

সুতরাং এই বছরেও এই পুজোর আয়োজন তিনি করেছেন। তাঁর সাথে আমরাও যুক্ত হয়। এই মন্দির সাধারণ মানুষদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ওনারা এখানে আসেন মায়ের দর্শন করতে, ভোগ খেতে।”