অর্জুনের তিরে ছিল পরমাণুর শক্তি,আজব দাবি রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর

187

ওয়েব ডেস্ক, ১৪ জানুয়ারিঃ ফের বিতর্কে জড়ালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। এবার অবশ্য রাজনৈতিক নয়, এবার পুরাণ নিয়ে আজব তত্ত্ব খাড়া করলেন রাজ্যপাল। পুরাণের সঙ্গে বিজ্ঞান মিশিয়ে এমন তত্ত্ব খাড়া করেছেন রাজ্যপাল যা শুনে তাজ্জব বনে গিয়েছেন বিজ্ঞানীরাও। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল বলেন, রামায়নের যুগে উড়ন্ত যানের ব্যবহার ছিল। অর্জুনের তিরে ছিল পরমাণুর শক্তি। এমনকী কৃষ্ণ কী ভাবে কুরুক্ষেত্র থেকে দূরে থেকেও ধৃতরাষ্ট্রকে যুদ্ধের বর্ণনা শুনিয়েছিলেন তাও ব্যাখ্যা করেন রাজ্যপাল।

যা শুনে একটি সংবাদমাধ্যমকে ভাবা পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের প্রাক্তন ডিরেক্টর বিকাশ সিনহা বলেন, রাজ্যপালের মস্তিষ্কে বিকৃতি রয়েছে। বৈজ্ঞানিক চিন্তার মধ্যে এই ধরণের কাল্পনিক বিষয় আরোপ ভয়ানক ব্যাপার। অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কোনও কিছু মেনে নেয় না বিজ্ঞান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে বিপ্লব দেব, পীযূষ গোয়েল, দিলীপ ঘোষ বিজ্ঞানকে অবজ্ঞা করে বিজেপি নেতারা এমন সব মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন সময়ে। যা শুনে মাথা নীচু করে ফেলেছেন তাবড় বিজ্ঞানীরাও। এবার সেই পথেই হাঁটলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। তবে রাজ্যপালের মুখে এহেন সব আজব তত্ত্ব শুনে অনেকেরই অভিমত, এটাই তো গেরুয়া ট্র্যাডিশন। পদাধিকার বলে এখন রাজ্যপাল হলেও জগদীপ ধনখড় আসলে তো বিজেপিরই অংশ ছিলেন, তাই এমন অভিমত আশ্চর্যের নয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, মেঘলা আকাশে পাক র‌্যাডার কাজ করবে না। বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের আগে তাঁর এমনই পরামর্শে নাকি সুফল পেয়েছিল বায়ুসেনা। এখানেই শেষ নয়, নরেন্দ্র মোদীর অন্য আরেক বক্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। শুরু হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার হাসি-তামাশা।

তিনি দাবি করেছিলেন, ১৯৮৮ সালে তিনি ই-মেল ও ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করেছেন। এটা শোনার পরে অনেকেই মাথা চুলকোচ্ছেন। সেই ক্যামেরায় তিনি বিজেপির প্রবীণ নেতা এল কে আডবাণীর ছবি তুলেছিলেন। শুধু তাই নয়, সেই ছবি তিনি নাকি ই-মেল করেও পাঠিয়েছিলেন। মেঘলা আকাশে র‌্যাডার কাজ না করার তত্ত্ব শুনে হেসেছিলেন অনেকেই। ডিজিটাল ক্যামেরা আর ইমেল পাঠানোর যে কথা তিনি বলেছিলেন, তাও সেই সমস্ত সুবিধা এদেশে আসার অনেক আগে বলেই দাবি করা হয়েছিল। অর্থাৎ সামঞ্জস্য নেই।