ফাঁড়ি আগুনে পড়ে ছাই, মানুষের অভিযোগ শুনতে খোলা আকাশের নিচে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা

92

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, মালদাঃ মিল্কি পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনার পর এখন খোলা আকাশের নিচে চলছে থানা। চেয়ার টেবিল নিয়ে মানুষের অভিযোগ শুনতে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা বসে রয়েছেন গাছতলার নিচে। এই ফাঁড়িতে অগ্নিকাণ্ডে রীতিমতো ভস্মিভূত হয়ে গিয়েছে পরিকাঠামো ব্যবস্থা। কবে ওই বাড়ির পরিকাঠামো ঠিক হবে তার সদুত্তর দিতে পারে নি সংশ্লিষ্ট ফাড়ির কর্তারা। এদিকে লকআপে বন্দি মৃত্যুর ঘটনার অভিযোগে মিল্কি ফাড়িতে ক্ষিপ্ত জনতার ভাঙচুর এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  পাশাপাশি মিল্কি পুলিশ ফাঁড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা।

যদিও ফুলবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে নিয়ামতপুর গ্রাম এখন পুরুষ শূন্য হয়ে রয়েছে। একদিকে পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কর্তারা। অন্যদিকে নিয়ামতপুর গ্রামে পুলিশ বাড়ি বাড়ি তাণ্ডব চালিয়ে ধরপাকড় করছে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। পুলিশি তাণ্ডবে রীতিমতো পুরুষশূন্য হয়ে গিয়েছে গোটা নিয়ামতপুর গ্রাম।

উল্লেখ্য, রবিবার লক্ষ্মী পূজো উপলক্ষে নিয়ামতপুর গ্রামের কয়েকটি এলাকায় জুয়ার আসর বসেছিল। সেখানে অভিযান চালায় মিল্কি ফাঁড়ির পুলিশ। এনামুল খান (৫৪) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হলে রহস্যজনক অবস্থায় তার মৃত্যু হয় পুলিশ ফাঁড়ির লকআপে বলে অভিযোগ। তাতেই মৃতের পরিবার এনামুল খানকে পুলিশ পিটিয়ে খুন করেছে বলে অভিযোগ তোলেন। এরপরই শুরু হয় গোলমাল। ক্ষিপ্ত মৃতের পরিবার একাংশ গ্রামবাসীরা পুলিশ ফাঁড়িতে এসে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরপর পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। বাধা দিতে এসে আক্রান্ত হয় পুলিশকর্মীরা।

এদিকে এই ঘটনার পর দমকলের দুটি ইঞ্জিন  শহর থেকে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ এগারোটি পৃথক ধারায় মামলা রুজু করেছে।  মৃত ওই বন্দির পরিবার গ্রামবাসীদের হামলায় সোমনাথ অধিকারী নামে একজন এএসআই এখনো চিকিৎসারত রয়েছেন মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। রবিবার রাতের এই ঘটনার পর শুরু হয় পুলিশের অভিযান। নিয়ামতপুরে গ্রামে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পুলিশ রীতিমতো সাধারণ মানুষের বাড়িতেও ভাঙচুর চালিয়ে ধরপাকড় করছে। যারা ওইদিনের পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালানোর ঘটনায় জড়িত ছিল না  তাদের অনেকেই অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ওই গ্রামের মহিলারা। যদিও এখনও ঘটনার তিন দিন কেটে গেলেও পুরুষশূন্য হয়ে রয়েছে নিয়ামতপুর গ্রাম।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, যারা পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরিয়েছে। ভাঙচুর চালিয়েছে। তাদের ধরপাকড়ের চেষ্টা চলছে। তবে ওই বন্দির মৃত্যু সম্পর্কে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশি লকআপে তার মৃত্যু হয় নি। পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ ফাঁড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।