ফের ডিটেনশন ক্যাম্পে মৃত্যু বৃদ্ধের,বাঙালিদের বিদেশি বানিয়ে হত্যা করছে অসম সরকার বলে অভিযোগ

655

ওয়েব ডেস্ক, ২৬ অক্টোবরঃ ফের অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। মৃত ওই ব্যক্তির নাম ফালু দাস (৭০)। জানা গেছে, ভোটার তালিকায় নাম ছিল ফালুর। ছিল নির্বাচনী পরিচয় পত্র। তা সত্ত্বেও ফালুকে যেতে হয় অসমের গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে। সেখান তিনি অসুস্থ হয়ে পরেন। তারপর ফালুকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মৃত্যু হয় ফালুর। সেই মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়। পরে পরিবারের লোকজন তাদের ওই ‘বিদেশি’ বাবা ফালু–‌র দেহ নিতে অস্বীকার করেছেন।

মৃত বৃদ্ধের তিন সন্তানই জানিয়েছেন, তাঁর বাবাকে যখন ‘বাংলাদেশি’ বলা হচ্ছে, তখন সেদেশের সরকারকেই দেহ দেওয়া হোক। তাঁরা দেহ নেবেন না। এর আগে, তেজপুর ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি দুলাল পাল ১৩ অক্টোবর অসুস্থ অবস্থায় গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেলে তাঁর পরিবারও দেহ নিতে অস্বীকার করে। দুলাল বাবুর ডেথ সার্টিফিকেটে ঠিকানা ‘ঢাকা’ লেখা হয়েছিল। পরে দুলালবাবুর ছেলেরা দেহ নিতে অস্বীকার করলে ডেথ সার্টিফিকেট বদলে অসমের ঠিকানা লেখা হয়। প্রায় দিন দশেক পর সৎকার হয় মরদেহের।

জানা গেছে, অসমের নলবাড়ি জেলার মুকালমুয়া থানার সোতেমারির বাসিন্দা ফালু দাস(৭০)। তিনি ভারতীয় নাগরিক। নির্বাচন কমিশনের সচিত্র পরিচয় পত্র রয়েছে তাঁর। কিন্তু ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল তাঁর নাগরিকত্ব মেনে নিতে অস্বীকার করে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তাঁকে ‘বিদেশি’ বলে ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

একটি সূত্রে খবর, গোয়ালপাড়া বন্দিশালায় বন্দি ফালুকে ১১ অক্টোবর অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাঠানো হয় গুয়াহাটি। সেখানেই মৃত্যু হয়। ফালু দাসের ছেলেদের অভিযোগ, অসুস্থতার খবর টুকুও তাঁদের জানানো হয়নি। মারা যাওয়ার পর খবর দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি যেহেতু ‘বাংলাদেশি’ তাই দেহ নিতে অস্বীকার করেন ফালুর ছেলেরা।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে অসম রাজ্য নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতি–‌র মহাসচিব সাধন পুরকায়স্থ বলেন, অত্যন্ত অমানবিক পরিবেশে বাঙালিদের বিদেশি বানিয়ে হত্যা করা হচ্ছে অসমে। দুলাল পালের পর ফালু। অসমে বিজেপি–‌র আমলে বন্দিশালায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭। সাধনবাবুর মতে, বন্দিশালার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অমানবিক আচরণই মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালকে তিনি বিদেশি বানানোর কারখানা বলেও কটাক্ষ করেন।