তৃনমূলে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব, ধারল অস্ত্র দিয়ে এক পঞ্চায়েত সদস্যকে কোপানোর অভিযোগ

16

বিশ্বজিৎ মন্ডল,মালদাঃ গ্রাম পঞ্চায়েতের দলীয় সদস্যকে ভোজালি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ দলেরই ওপর এক পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার কালিনয়াচক থানার আলীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাজার এলাকায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আক্রান্ত পঞ্চায়েত সদস্য। ঘটনার জেরে জোর চাঞ্চল্য এলাকা জুড়ে। ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আহত ওই ব্যক্তির নাম ফরিদুল ইসলাম ওরফে ফিটু(৩২)। তার বাড়ি জোৎপরম  গ্রাম এলাকায়। তিনি আলীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য। অভিযুক্ত মাইদুর শেখ তিনিও একই পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৯ টা নাগাদ বাজার এলাকায় পঞ্চায়েত সদস্যদের মাঝে বিবাদ শুরু হয়। পঞ্চায়েত কাজ নিয়ে তর্কবিতর্ক চলছিলো। সেই সময় হাতাহাতি শুরু হয়। এরপরই পঞ্চায়েত সদস্য ফরিদুল ইসলাম ওরফে ফিটুকে এলোপাথাড়ি ভোজালি দিয়ে কোপ মারে ওপর পঞ্চায়েত সদস্য মাইদুর শেখ সহ তার দলবল বলে অভিযোগ। চিৎকারে গ্রামবাসীরা ছুটে আসতেই পালিয়ে যায় অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য মাইদুর শেখ সহ তার দলবল। তড়িঘড়ি স্থানীয়রা আক্রান্ত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যকে সিলামপুর গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে আসে। আক্রান্ত পঞ্চায়েত সদস্যের গলায়, মাথায়, বুকে, পেটে সহ শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত গুরুতর থাকায় চিকিৎসকেরা স্থানান্তরিত করে দেন মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চলছে তার চিকিৎসা।

গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গেছে, ১৭টি আসন বিশিষ্ট আলীনগর গ্রাম পঞ্চায়েত। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল  ১৪টি, বিজেপি ২টি ও কংগ্রেস ১টি আসন পাই। তবে সকল সদস্যই তৃণমূলে চলে আসায় বিরোধী শুন্য পঞ্চায়েত গঠন করে তৃণমূল। দশ জন সদস্যের সম্মতিতে প্রধান হয় রুমি বিবি। তারপর থেকে দুটি গোষ্ঠী হয়ে যায় পঞ্চায়েত সদস্যরা। দুই গোষ্ঠীতে পঞ্চায়েতে দ্বন্দ্ব চলছিলোই। তবে এদিন সেই লড়াই বহিঃপ্রকাশ হয়। পঞ্চায়েতের কাজ নিয়েই গন্ডগোল বলেই মনে করছে পঞ্চায়েত নেতৃত্ব।

স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত আলী জানান, পঞ্চায়েতের কাজ নিয়ে ফিটু মেম্বারকে কুপিয়েছে মাইদুর। আমরা তড়িঘড়ি তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়। গোটা শরীরে কোপানো হয়েছে ভোজলি দিয়ে।