মালদায় এলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান আতিফ রশিদ

20

বিশ্বজিৎ মন্ডল, মালদাঃ বিধানসভার নির্বাচন পার হতেই শাসক দল তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে গোলমালের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাজোল থানার রানীগঞ্জ ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট এবং এলাকাছাড়া করে দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মালদায় পরিস্থিতি তদারকি করতে এলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান আতিফ রশিদ।  বুধবার কেন্দ্রের অধীনস্থ এই মানবাধিকার কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান রানীগঞ্জ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কেনবোনা গ্রামে যান। সেখানেই ঘরছাড়া বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য ও তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিন সকালে মালদা শহরের নতুন সার্কিট হাউস থেকে কনভয় করে সরাসরি গাজলের রানীগঞ্জ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কেনবোনা গ্রামের উত্তেজনা পূর্বক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন জাতীয় মানবঅধিকার কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান আতিফ রশিদ। ওই এলাকার পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখার পর ভাইস চেয়ারম্যান আতিফ রশিদ বলেন, ইতিমধ্যে কয়েকটি এলাকা আমি গিয়েছিলাম। সেখানকার মানুষদের সাথে কথা বলেছি। অশান্ত পরিবেশ কেন তৈরি হল সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। এই  হামলার ঘটনর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। পরবর্তীতে যাতে গোলমাল বা উত্তেজনা পূর্বক পরিস্থিতি তৈরি না হয় সে ব্যাপারে পুলিশকে জানানো হয়েছে। যদি পরবর্তীতে ওইসব পঞ্চায়েত সদস্যদের ওপর হামলা এবং নির্যাতনের ঘটনা ঘটে তার দায় পুলিশকে নিতে হবে। এরপর আরো বেশ কয়েকটি জায়গায় যান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান আতিফ রশিদ।

এদিকে রানীগঞ্জ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অত্যাচারিত বিজেপি দলের এক পঞ্চায়েত সদস্য রাজকুমার মন্ডল জানিয়েছেন, রানীগঞ্জ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ১৩ টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ৭টি,  তৃণমূল পেয়েছিল ৬টি। পরবর্তীতে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতেই বিজেপি দলের এক পঞ্চায়েত  সদস্য নারায়ন মন্ডল তৃণমূলে যোগদান করেন। আর তখনই তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রানীগঞ্জ ২ পঞ্চায়েত দখল করে। আর তারপর থেকে শুরু হয় বিজেপির অন্যান্য পঞ্চায়েত সদস্যদের পরিবারের ওপর অত্যাচার। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়ে তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি আসবাবপত্র লুট করেছে। প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের মহিলাদেরও মারধর করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বাড়ি ছাড়া রয়েছেন বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যরা। এ ব্যাপারেও দিল্লি থেকে যিনি এসেছিলেন, তাকে সমস্ত অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। আমরা এলাকায় শান্তি পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ ও প্রশাসনকেও জানিয়েছি।