বাচিক শিল্পী ঊর্মিমালার কাছে ক্ষমা চাইলেন বাবুল, কেন জানেন ?

18

ওয়েব ডেস্ক,২৪ সেপ্টেম্বরঃ যাদবপুর কাণ্ডে বাচিক শিল্পী ঊর্মিমালা বসুর ও গায়ক সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র বিতন্ডা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। যাদবপুর কাণ্ডের জেরে প্রাক্তনী হিসেবে বাচিক শিল্পী ঊর্মিমালা বসু মত প্রকাশ করেছেন, তার জেরেই তাঁকে নিয়ে অশ্লীল আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে জমায়েতেরও ডাক দিয়েছে কিছু সংগঠন। এসবের মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে ঊর্মিমালা বসুকে উদ্দেশ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা চান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর প্রবেশ নিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, তাঁর উপর আক্রমণ করেন বেশকিছু ছাত্রছাত্রী। ঘটনার জেরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল গোটা যাদবপুর চত্বর।

এই ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মত-পাল্টা মত শুরু হয়। তাণ্ডবের বিরুদ্ধে নিন্দা করেন বহু মানুষ। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে সমর্থন করেছেন ছাত্রছাত্রীদের। আর সেই তালিকাতেই ছিলেন বাচিক শিল্পী ঊর্মিমালা বসুও। যাদবপুরের পড়ুয়াদের সমর্থনে মুখ খুলেছিলেন তিনি। অন্য এক জনের একটি লেখা নিজের ওয়ালে পোস্ট করেছিলেন তিনি।

সেই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন  “বাবুলের উচিত বাচ্চাগুলোর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।” যার জেরে পাল্টা ঊর্মিমালা বসুকেও ক্ষমা চাইতে বলা হয় বাবুলের কাছে। এই ক্ষমা না চাওয়ায় তাকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করা শুরু হয় ঊর্মিমালা বসুকে বলে অভিযোগ।

সোশ্যাল মিডিয়ার ওই কুরুচিকর মিমের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের করছেন শিল্পী ঊর্মিমালা বসু। উল্লেখ্য, কুরুচিকর ওই মিমে ঊর্মিমালা বসুকে ‘যৌনদাসী’ বলা হয়। এর প্রতিবাদে নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছে গোটা রাজ্য জুড়ে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেই ঝড়েরই প্রতিফলন ঘটছে।

ঊর্মিমালা নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, ‘‘বাবুলের সঙ্গে আমাদের বহু বার বিভিন্ন সময়ে নানা অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে। সব সময় সুন্দর ভাবে কথা বলেছেন। সেটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক। ওঁর সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থানে আমার মতপার্থক্য আছে। থাকতেই পারে। রাজনৈতিক ভাবে তিনি কী করবেন বা বলবেন, সে ব্যাপারে আমার কোনও মতামত নেই।’’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এই ৭৩ বছর বয়সে আমাকে নিয়ে যাদের নোংরা কথা বলতে আটকায় না, তাদের সামনে ছাত্রছাত্রীরা আরও বেশি বিপন্ন, আমার কাছে সেটাই দুশ্চিন্তার। জীবনের এই বয়সে এসে এই নোংরামি আর অসভ্যতা বেদনাদায়ক, এই যা।’’

মঙ্গলবার সকালেই ঊর্মিমালা বসুর প্রতি আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় নিজে। প্রতিবাদ করে ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “এই ধরনের আচরণ একেবারেই কাম্য নয়৷ আমি ব্যক্তিগতভাবে ওনাকে চিনি৷ যাদবপুর কাণ্ডে উনি যা বলেছেন তাঁর উত্তর আমি দেব যথা সময়ে৷ কিন্তু এই ধরনের নোংরা মিম একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়।”