বাংলায় কড়া লকডাউন, রাম‌ মন্দিরের ভূমিপুজো ঘিরে চাপা উত্তেজনা

51

ওয়েব ডেস্ক, ৫ আগস্টঃ আগে থেকেই রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে আগামী ৫ তারিখ রাজ্যে লকডাউন হবে। লকডাউনের মধ্যে বাড়ির বাইরে বেড়িয়ে রাস্তায় নেমে কেউ কোনও রকমের জমায়েত বা ধর্মীয় অনুষঙ্গ পালন করতে গেলে প্রশাসন কড়া হাতেই তার মোকাবিলা করবে।

সেই মতোই বুধবার সকাল থেকেই রাজ্যের নানা প্রান্তে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে রামমন্দির নির্মাণের জন্য ভূমি পূজনের অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে যে সব অনুষ্ঠান সমান্তরাল ভাবে আয়োজিত করা হয়েছিল তা সব আটকে দেয় পুলিশ। নানা জেলাতেই তা নিয়ে সাময়িক ভাবে পুলিশ ও গেরুয়া শিবিরের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। তবে কোথাও পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়নি।

জানা গিয়েছে, এদিন সকালে নিউটাউনে ভূমিপুজো উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি–র পতাকা ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এদিকে, মঙ্গলবার রাতে রাজারহাটের নারায়ণপুরে এক মন্দিরে ভূমিপুজো উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ,তাতে বাধা দিতে বোমা,গুলি চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।

বিজেপি লকডাউনের দিনবদলের আর্জি করলেও তা আগেই খারিজ করে রাজ্য সরকার। তাই রাজ্যবাসীকে বাড়িতে, মন্দিরে বা আশ্রমে প্রার্থনার অনুরোধ জানায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

সংগঠনের মুখপাত্র সৌরিশ মুখোপাধ্যায় জানান, দুপুরে শঙ্খধ্বনি ও সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করে তোলা হবে। তবে শুধু শঙ্খধ্বনি নয়, বাজি ফাটিয়ে, ‘জয় শ্রীরাম’ধ্বনি দিয়ে উদ্যাপন হল বারুইপুরে। এদিন সকালে বারুইপুর আমতলা রুটের জোড়া দোকান এলাকায় লকডাউন বিধি ভেঙে জমায়েত করেন বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা। নেতৃত্বে ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বিজেপি–র সহ সভাপতি সুফল ঘাটু।

অন্যদিকে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পূজোর ধাঁচে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি শহরের কংগ্রেস পাড়া এলাকার মাঠে প্যান্ডেল করে বিজেপি যুব মোর্চার জেলা সভাপতি ও তাদের মিডিয়া সেলের সদস্যরা রামের ফটো লাগিয়ে ঘটা করে পূজোর আয়োজন করেছিলেন। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে পূজো বন্ধ করে দেয়। ঘটনাস্থলে নিজেই গিয়েছিলেন জলপাইগুড়ি টাউন থানার আইসি বিপুল সিনহা। পুলিশের সঙ্গে এই নিয়ে বচসা বাঁধে যুব মোর্চার কর্মীদের। পরে একপ্রকার বাধ্য হয়ে বিজেপি কর্মীরা সরিয়ে নেয় রামের ফটো।

একই রকমভাবে হাওড়া শহরে এদিন ভোরে রীতিমত বাদ্যযন্ত্র সহকারে আতশবাজি ফাটিয়ে শোভাযাত্রা বের করে রামরজতলা মন্দিরে এসে হাজারখানেক বিজেপি কর্মী সমর্থক নিয়ে পুজো দিলেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সিং ও জেলা সদর সভাপতি সুরজিৎ সাহা। তবে লকডাউন যেহেতু সকাল ৬টা থেকে তাই ভোর ৪টের সময়ের এই পুজো দেওয়া নিয়ে বাধা দেয়নি পুলিশ। তবে মন্দির প্রাঙ্গণে পুলিশ মোতায়েন ছিল।

এদিকে কলকাতার পাশে থাকা রাজারহাট থানার নারায়ণপুর এলাকায় গতকাল রাতে রাম পুজোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। রামের ছবি দেওয়া হোডিং, ব্যানার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা সহ এলাকায় বোমাবাজি এবং গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে কিছু দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের তীর তৃণমূল নেতা তথা বিধাননগর পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র তাপস চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে।

যদিও সেই অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে গোটা ঘটনাটাই বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনার জের বলে চিহ্নিত করেছেন। এলাকায় পরিস্থিতি যাতে উত্তপ্ত না হয় তার জন্য গতকাল রাত থেকেই বিশাল পুলিশ মোতায়েন করে নারায়ণপুর এলাকায়। পুলিশের পাশাপাশি র্যাফও নামানো হয়। এদিন সকাল থেকেই এলাকায় পুলিশের রুট মার্চ চলছে।

যদিও রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ব্যানার ছিঁড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হটিয়ে দেওয়ায় চেষ্টা করছে পুলিশ। এ দিন তিনি প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে নিউটাউনে রাম মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে আসেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘রাম মন্দিরের ভূমিপুজোর দিন লকডাউন করে ভালো করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ আমরা বাড়িতে থেকেই রামের পুজো করব।’