ফের ভারত সফর বাতিল বাংলাদেশের মন্ত্রীর

104

ওয়েব ডেস্ক, ১১ জানুয়ারিঃ দেশ জুড়ে সিএএ-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যেই শুক্রবার থেকে ভারতে লাগু হয়েছে ওই বিতর্কিত আইন। এই উত্তেজক পরিস্থিতির মধ্যেই ভারত সফর বাতিল করলেন বাংলাদেশের উপ বিদেশমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। শনিবার এই কথা জানানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই বিদেশমন্ত্রক আয়োজিত বার্ষিক কনফারেন্স রাইসিনা ডায়লগ-এ যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছনোর কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই সফর বাতিল করা হয়েছে।গত এক মাসে এই নিয়ে বাংলাদেশের তিনজন মন্ত্রী ভারত সফর বাতিল করলেন। বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর দিল্লি সফর বাতিল নিয়ে অবশ্য মুখে কুঁলুপ এটেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার। তবে কূটনীতিবিদরা মনে করছেন, বাংলাদেশের মন্ত্রীরা যেভাবে পরপর ভারত সফর বাতিল করছেন, তাতেই স্পষ্ট পড়শি দু’দেশের বন্ধুত্বে যথেষ্ট ফাটল ধরেছে।

বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল লোকসভায় পেশ করার পরে যেভাবে মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ‘অসত্য’ বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে বেজায় চটেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ‘যতক্ষণ না ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের অসত্য ভাষণ নিয়ে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ না করবেন, ততদিন পর্যন্ত দিল্লির শাসকদের থেকে দুরত্ব বজায় রাখা হবে। কোনও মন্ত্রী ভারত সফর করবেন না।’বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত মাসে শিলং সফর বাতিল করেছিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। নির্ধারিত দিল্লি সফরও বাতিল করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। এমনকি দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের নদী নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও একতরফাভাবে বাতিল করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

আগামী সোমবার থেকে দিল্লিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের উদ্যোগে ‘রাইসিনা সংলাপ’ হতে চলেছে। সেই বৈঠকে যোগ দিতে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের যোগ দেওয়ার জন্য রবিবার বিকেলেই দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শনিবার বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, ‘রাইসিনা সংলাপ’-এ যোগ দিতে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী দিল্লি যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রককে মন্ত্রীর না যাওয়ার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।