থানাতেই হবে জন্মদিন, হবে পার্টিও, নিয়ম করল মুজফফরনগরের পুলিশ সুপার

314

ওয়েব ডেস্ক, ৪ অক্টোম্বরঃ উৎসব-পার্বণ হোক কিংবা পারিবারিক কোনও অনুষ্ঠান কিছুতেই ছুটি নেই পুলিশ প্রশাসনের। কর্তব্যকর্মে ফাঁকি দেওয়া মানে খাগি উর্দির অপমান করা, এটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন সকল পুলিশ আধিকারিকরা। ছুটির দিনেও তাঁদের খামতি নেই, ছুটির দিনেই বেড়ে যায় কয়েকগুণ কাজের চাপ। সাধারন মানুষকে অতন্ত্র প্রহরীর মতো রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়ে সবসময় সজাগ থাকছে হয় তাঁদের। সেই পুলিশ আধিকারিকদের কাছে জন্মদিন তো নিছকই তুচ্ছ ব্যাপার।

তবে এ বার আর সেটি হচ্ছে না। অন্য ছুটি মিলুক বা না মিলুক, জন্মদিনটা অন্তত থানাতেই হইহুল্লোড় করে কাটাক সকলে, এমন ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক যাদব। শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছাকে মান্যতা দিয়ে তাঁর সেই ইচ্ছাই নিয়ম হয়ে দাঁড়াল মুজফফরনগরের প্রত্যেকটি থানায়।

মুজফফরনগরের এসএসপির অর্ডার করে জানিয়ে দেয়, জন্মদিন পালনে কোনও র‍্যাঙ্ক দেখা হবে না। অফিসার থেকে কনস্টেবল, যাঁরই জন্মদিন হোক না কেন, বাকি কলিকরা কেক এনে সেলিব্রেট করবে সেই পুলিশ আধিকারিকের জন্মদিন। শুধু তাই নয়, থানাকে সাজানো হবে সুন্দরভাবে। পাশাপাশি এও জানানো হয় জন্মদিনের দিন  ঘণ্টা খানেক দিতে হবে কাজে বিরতি। কেককাটার পাশাপাশি থাকবে ভুরিভোজেরও আয়োজন। দেওয়া হবে ‘হ্যাপি বার্থডে’ লেখা কার্ডও। সবমিলিয়ে ছোটখাটো একটা সেলিব্রেশন হবে থানার ভিতরেই।

অভিষেক যাদব মুজফফরনগরের এসএসপির পদে রয়েছেন বেশ কয়েক বছর। তাঁর কথায়, “পুলিশদের জীবন বড় কঠিন। পরিবারের থেকে দূরে সব সময় কর্তব্য করে যেতে হয়। উৎসব বা ছুটির দিনেও রেহাই নেই। সকলেই চায় জন্মদিনটা পরিবার, আত্মীয়দের সঙ্গে কাটাতে। তাই আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি। থানার ভিতরেই সেই আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা হবে সকলকে।”

পুলিশের জীবনটা এক অন্যরকম, দিনভর চলে অন্ধকার জগতের সঙ্গে যুদ্ধ।  অপরাধীদের ধরপাকড়ের মধ্যেই কখন যে একটা বজ্রকঠিনসম মন নিজেদের মধ্যে তৈরি হয়ে যায় তাঁরা নিজেরাই বুঝতে পারেন না। সেই কঠিন দুনিয়ায় সামাজিকতা, লোক-লৌকিকতা হয়ে যায় বড় তুচ্ছ। ব্যবহারটাও আপাত দৃষ্টিতে হয়ে যায় রুক্ষ। অফিসার তো আছেই উৎসবের দিনে ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে শহরের যান চলাচলকে নিয়ন্ত্রন করতে প্রখর রোঁদ বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে যারা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে তাঁদেরও   মনে হয় পরিবারের সঙ্গে কিছুটা আনন্দ ভাগ করে নেবার, কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। পুলিশ জীবনটা এমনই, সব দূরে সরিয়ে কর্তব্যে অবিচল থাকতে হয় তাঁদের। মনের অভিব্যক্তিকে মনেই বির্সজন দিতে হয়। তখন মনে হয় কর্তব্যের কাছে এই ইচ্ছেটা নিছকই ফিকে।

এসএসপি অভিষেক যাদব বলেন, এটাই কারণ এই জন্মদিন পালন করার। শুধু আনন্দ দেওয়া নয়, বরং থানায় প্রতিটি পুলিশ কর্মীর মধ্যে সম্পর্কের বাঁধনকে আরও দৃঢ় করা। যার ফলে ঘুচে যাবে পদের উচ্চতার অহঙ্কার। যার দরুন কাজে আরও বেশি করে মন বসবে। “পার্টি তো আমার খুব পছন্দ,” বলেছেন শাহপুর থানার ইনস্পেকটর বিজয় পাল। তাঁর কথায়, “থানায় আমরা ৩০ জন কর্মী রয়েছি। তার মানে হিসেবে দাঁড়াচ্ছে মাসে দুটো করে জন্মদিনের পার্টি। আনন্দ আর আনন্দ, এখানেই তো শেষ নয় থাকছে খাওয়াদাওয়াও। ভাবা যায়!”