পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলকে শুন্য করার দাবি বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সৌমিত্র খাঁর

174

আব্দুল হাই, বাঁকুড়াঃ বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন কালে তৃণমূলকে ৫-১ করেছি পঞ্চায়েত নির্বাচনে শূন্য করতে চাই দাবি বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সৌমিত্র খাঁর। পাল্টা প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের।

তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি ডক্টর শ্যামল সাঁতরা বলেন, উনি অনেক কথাই বলেন সেটা ওনাদের নিজেদের দলও ওনাকে পছন্দ করেন না গুরুত্ব দেন না অন্যান্য দলে তার কথায় কোনো এসে যায় না। উনি ওনার নিজের ভাবভঙ্গিতে যেটা বলেন সকালবেলায় দল ছেড়ে দিচ্ছি বিকেল বেলাতে আবার দলে ঢুকছি, সুতরাং সেরকমই তার কথাবার্তা উনি সব সময় মিডিয়াতে একটা হাইপ নেয়ার চেষ্টা করেন। উনি ওনার মস্তিষ্কপ্রসূত চিন্তাভাবনা থেকে কথাবার্তা বলেছেন বলে মনে হচ্ছে না। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে মানুষের হৃদয়ের মধ্যে ঢুকে আছে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে সে নিয়ে আর নতুন কিছু বলার নেই। এছাড়া সৌমিত্র খাঁ কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন বহু নেতা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন, সুতরাং তিনি ও কবে কোন দল থেকে কোন দলে যাবেন সেটা তিনি নিজেই বলতে পারবেন, কারণ তিনি সকালে এক দল করেন বিকালে এক দল করেন।

এছাড়াও এদিন বিষ্ণুপুরের সাংসদ তোতা রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ বলেন ‘বয়স পেরিয়ে গেলে এমনিতেই যুব মোর্চার পদ ছেড়ে দিতে হয়, এটা নতুন কিছু নয়। আমি কি সারা জীবন যুব মোর্চা করবো! দলের তরফে রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরানোর তোড়জোড়ের মাঝেই এই মন্তব্য করলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। রবিবার বিষ্ণুপুর শহরের একটি  বেসরকারী লজে দলের সাংগঠনিক সভায় যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই কথা বলেন। একই সঙ্গে শুভেন্দু-সৌমিত্র সাম্প্রতিক দ্বৈরথ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘কোন রাগ নেই। তবে রাজনীতিতে রাগ-অভিমান ওটাও চলে, আবার রাজনীতি-কূটনীতিও চলে’।

তাঁকে কটাক্ষ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ‘এক গাছের ছাল অন্য গাছে লাগানো’ প্রসঙ্গে সৌমিত্র খাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘দুধ জলে মিশে গেলে কি জলটাকে আলাদা করা যায়!’

এদিন রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ সৌমিত্র খাঁ শহরে পৌঁছানোর আগে থেকেই অসংখ্য কর্মী সমর্থক স্টেশন চত্বরে ভীড় করেন। সেখান থেকে বাইক মিছিল করে ‘সৌমিত্রদা জিন্দাবাদ’ আওয়াজ তুলে তাঁরা সভাস্থলে হাজির হন। এদিনের সভায় সৌমিত্র খাঁ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিত অগস্থী সহ ঐ এলাকার বিজেপির পাঁচ বিধায়ক সহ অন্যান্যরা।