মাথাভাঙায় মন্ত্রীর বুথে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ তৃণমূলের দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে, হাসপাতালে বিজেপির প্রতিনিধি দল

569

কোচবিহার, ২৩ ফেব্রুয়ারিঃ উচ্চ মাধ্যমিকের এক ছাত্রীকে বিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতিরা ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ তুলল বিজেপি। এদিন কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রীর সাথে দেখা করতে যান বিজেপির এক প্রতিনিধি দল। তাঁরা ওই ছাত্রীর পরিবারের সাথেও কথা বলেন।

পরে প্রতিনিধি দলের পক্ষে বিজেপির মহিলা মোর্চার জেলা সভানেত্রী মিনতি ইশোর ও যুব মোর্চার জেলা সভাপতি অজয় সাহা জানান, ধর্ষিতা ওই ছাত্রীর বাড়ি রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিনয় কৃষ্ণ বর্মণের নিজের বুথ মাথাভাঙা ২ নম্বর ব্লকের নিউ চ্যাংরাবান্ধা এলাকায়। গত রবিবার তাঁকে একটি বিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তৃণমূলের এক দল দুষ্কৃতি ধর্ষণ করে। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যুব মোর্চার কোচবিহার জেলা সভাপতি অজয় সাহা অভিযোগ করে বলেন, “ওই ঘটনার পর থেকে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বারবার থানায় গিয়ে আবেদন নিবেদন করলেও তাঁর অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে না, উল্টে পুলিশ ওই পরিবারে লোকজনকে ভয় দেখিয়ে বিষয়টি ধামচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।” মহিলা মোর্চার জেলা সভাপতি মিনতি ইশোর বলেন, “পুলিশ দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ করে ওই ছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা সহ ঘটনার তদন্ত এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করলে কোচবিহারে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

ওই ঘটনা নিয়ে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী তথা মাথাভাঙার তৃণমূল বিধায়ক বিনয় কৃষ্ণ বর্মণ বলেন, “ওই ঘটনার সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন সম্পর্ক নেই। তৃণমূল কংগ্রেস ওই বিয়ে বাড়িতে পাহারায় ছিল না। তবে যতটুকু শুনেছি দুজনের মধ্যে একটা সম্পর্ক ছিল। তার জেরেই কোন ঘটনা ঘটেছে। মেয়েটির পাশাপাশি ছেলেটিও অসুস্থ। ছেলেটির জিহ্বা নাকি মেয়েটি দাঁত দিয়ে কেটে দিয়েছে। সেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনা যাই হোক পুলিশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এরমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস কোন ভাবেই নাগ গলাবে না।”

মাথাভাঙা ২ নম্বর ব্লকেই বাম আমলে একটি ধর্ষণের ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস ওই ঘটনা নিয়ে অভিযুক্ত সিপিআইএম দলের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছিল। ‘ক্যালসা মিয়াঁ ধর্ষণকান্ড’ নামে ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের দলের সম্পদ বলেও দাবি করেছিলেন তৎকালীন এক সিপিআইএম নেতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই মামলায় ক্যালসা মিয়াঁ সহ সমস্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণ হয় এবং তাঁদের শাস্তিও ঘোষণা হয়েছিল। এদিনের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর অনেক বিজেপি নেতা এই ঘটনায় ক্যালসা মিয়াঁ কাণ্ডের ছায়া দেখতে পারছেন বলেও তাঁরা দাবি করেছেন। বিজেপির এক নেতা বলেন, “ওই সময় বামেরা যেভাবে পুলিশ প্রশাসন দিয়ে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। ঠিক একই কায়দায় রাজ্যের বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বিজেপি এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবে।”