তর্পণকেও রাজনীতির মঞ্চে টেনে এনেছে বিজেপি, মত খোদ তাদের নিযুক্ত পুরোহিতদেরই

12

ওয়েব ডেস্ক, ২৮ সেপ্টেম্বরঃ ‘এ তর্পণ আর ও তর্পণ-এ অনেক তফাত। ইচ্ছা করলে সবই করা যায়, কিন্তু এর উদ্দেশ্যতেই যে সমস্যা রয়েছে।’  মহালয়ার সকালে বিজেপি’র আয়োজিত শহীদ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিয়ে এমন কথাই জানাচ্ছেন তর্পণ করাতে আসা পুরোহিতরা। কারও কারও আবার মনে একটু ভয়ও রয়েছে। আমতা আমতা করে বললেন, ‘হতেই পারে। বিশেষ তফাৎ নেই। ওই এট্টু আধটু। করা যায়, করা যায়।’

সেই তর্পণকেও রাজনীতির মঞ্চে টেনে এনেছে বিজেপি। মহালায়া পূণ্য লগ্নে কলকাতায় দলের খুন হওয়া কর্মীদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ করলেন বিজেপির তাবর নেতারা। ছিলেন বিজেপির কার্যকরী সভাপতি জেপি নাড্ডা, বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ছিলেন মুকুল রায়ও। লোকসভা ভোেটর পর থেকে রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা যে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা খুন হয়েছেন তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় এই তর্পণ বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতারা।

বিজেপি নির্বাচিত পুরোহিতরা বারবার এটাই বোঝাতে চাইলেন যে, ‘সকাল বেলা গঙ্গার ঘাটে ঘাটে মানুষের যে ঢল দেখা যায় প্রত্যেক মহালয়ার দিন সেখানে থাকে পূর্বপুরুষদের আত্মার প্রকৃত শান্তি কামনা এবং তা একদম অন্তর থেকে সৃষ্ট। এর জন্য কোনও মণ্ডপের আয়োজন করতে হয় না। কোনও আলাদা গঙ্গার ঘাটের প্রয়োজন পরে না।’ মানেটা খুবই সহজ, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এখানে আসল, যা অন্তরে পৌঁছয় না।’

বিজেপি নেতৃত্বরা অবশ্য তা মানতে রাজি নন৷ তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দলের মানুষের আত্মার শান্তি মন থেকে চাই। তাই এই আয়োজন করেছি। শহীদ সমর্থকদের পরিবারদের প্রতি এ আমাদের বিশেষ শ্রদ্ধা। যা আয়োজন তা পুরোটাই হৃদয়ের অন্দর থেকে। রাজনীতির চিহ্ন আছে বলেই উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক নয়।  এ বার্তা রাজ্য সরকারকে। যাদের গুন্ডাবাহিনী আমাদের সমর্থকদের খুন করেছে সেই দলের কোনওদিন ভাল হবে না।’