সাংসদের পাশে বসা নিয়ে বিজেপির দুই নেতার মধ্যে হাতাহাতি,সংকল্প যাত্রায় অশান্তি পদ্ম শিবিরে

1000

ওয়েব ডেস্ক, ২৫ অক্টোবরঃ অহিংসার পূজারী মহাত্মা গান্ধীর সংকল্প যাত্রায় অশান্তি বাধল পদ্ম শিবিরে। বৃহস্পতিবার গড়বেতায় সংকল্প যাত্রা ঘিরে ধুন্দুমার কাণ্ড ঘটে বিজেপির দুই নেতার মধ্যে। গোলমাল ছড়িয়ে পড়ে অন্য নেতা কর্মীদের মধ্যেও। যা থামাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয় ঝাড়গ্রাম লোকসভার সাংসদ কুনার হেমব্রমকে।

এদিন বিজেপি–র গান্ধী সঙ্কল্প যাত্রার ছিল নবম দিন। ঝাড়গ্রাম লোকসভার গড়বেতায় আমলাগোড়ায় এই যাত্রার সূচনা হয়। মঞ্চে তখন নেতাদের দাপাদাপি চলছে। ওই এলাকায় বিজেপি–র গোষ্ঠী কোন্দল থাকায় কর্মী–সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল কম। দুপুরে অনুষ্ঠানে আসেন বিজেপি সাংসদ কুনার হেমরম। তিনি মঞ্চে উঠতেই তঁার পাশের চেয়ারেকে বসবেন, তা নিয়ে বিজেপি নেতাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। চলে ধাক্কাধাক্কি। বিজেপি–র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কার্যকরী সভাপতি ও গড়বেতার বিজেপি নেতা প্রদীপ লোধা সাংসদের পাশের চেয়ারে বসে পড়েন। তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সেই চেয়ারের দখল নেন বিজেপি–র আরেক নেতা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সহসভাপতি ও চন্দ্রকোনা রোডের বিজেপি নেতা মদন রুইদাস।

অভিযোগ, প্রদীপ লোধা মদনবাবুকে ঘুষি মারেন। এরপর তিনিও পাল্টা ঘুষি মারে। দু’জন দুজনের পাঞ্জাবির কলার ধরে টানা হ্যাঁচড়া করতে থাকেন। মঞ্চে যখন সঞ্চালক সাংসদকে পুষ্প স্তবক দিয়ে বরণের কথা বলছেন তখন নিচে থাকা বিজেপি কর্মী সমর্থকরা মঞ্চে দুই নেতার ‘মিউজিক্যাল চেয়ারের’ এবং মারামারির দৃশ্য নিজেদের মুঠোফোনে বন্দি করতে ব্যস্ত।

সভায় তুমুল হৈ হট্টগোল বেধে যায়। দুই নেতার অনুগামীদের মধ্যেও গোলমাল ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে সাংসদের নিরাপত্তা রক্ষীরা তাঁকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করে। তিনি যুযুধান দুই পক্ষকে সামলাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মঞ্চ থেকে না নেমে তিনি নিজেই মাইক ধরে বলেন,‘দলের মধ্যে শঙ্খলা বজায় রাখতে না পারলে এই ধরনের কর্মসূচি নেবেন না। আগে আপনারা শঙ্খলা শিখুন এরপর নেতা হয়ে মঞ্চে বসবে।’ তিনি যে এই ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ তাও জানিয়ে দেন সাংসদ কুনার হেমব্রম।

এদিনের কর্মসূচি বাতিল করে সাংসদ ফিরে যাবেন বলে জানাতেই অন্য নেতা কর্মীরা তাঁকে আবেদন জানান। এবং বলা হয় যে কর্মসূচী ছেড়ে সাংসদ চলে গেলে ভুল বার্তা যাবে। এরপর তাঁদের দাবি মেনে ওই দুই নেতা সাংসদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। গড়বেতার আমলাগোড়া থেকে গোয়ালতোড়ের হাঁড়িমারা পর্যন্ত এদিনের কর্মসূচি নমো নমো করে শেষ করে ফিরে যান সাংসদ। যদিও পরস্পরকে দোষারোপ করে গিয়েছেন অভিযুক্ত দুই বিজেপি নেতা। দু’জনেই রাজ্য নেতৃত্বকে এবং রাজ্য সভাপতিকে অভিযোগ জানাবেন বলে দাবি করেছেন।