বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান ঘোষণা স্পিকারের, ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপির বিধায়কেরা

279

ওয়েব ডেস্ক, ৯ জুলাইঃ অবশেষে জল্পনার অবসান। বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন মুকুল রায়। শুক্রবার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। স্পিকারের ঘোষণার পরই বিজেপি বিধায়কদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা কক্ষ। বিক্ষোভ দেখানোর পর ওয়াক-আউটও করে গেরুয়া শিবির।

উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক হয়েছেন মুকুল রায়। তার কিছুদিনের মধ্যেই তৃণমূলে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু বিধায়ক পদ ছাড়েননি মুকুল। উপরন্তু বিধানসভার পিএসি চেয়ারম্যান পদের জন্য মনোনয়ন দাখিল করেন। পিএসির জন্য মোট ২০ জন সদস্যের তালিকা আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল বিধানসভার তরফে। বিজেপির ৬ জন, তৃণমূলের ১৩ জন এবং মুকুল রায় মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। ২০ জনের কমিটিতে ২০টি বৈধ মনোনয়ন জমা প়ড়ায় নির্বাচনের প্রয়োজন পড়েনি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই কমিটিতে নির্বাচিত হন ২০ জন। এরপর থেকেই মুকুলের পিএসি চেয়ারম্যান হওয়া নিয়ে জল্পনা চলছিল। শেষপর্যন্ত শুক্রবার স্পিকার নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে মুকুলকে ওই পদে বসালেন। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “রীতিনীতি বিসর্জন দিয়ে অধ্যক্ষ মুকুলকে পিএসি চেয়রাম্যান করেছেন। বিজেপির কেউ মুকুল রায়ের প্রস্তাবক ছিলেন না। তাহলে কীসের ভিত্তিতে মুকুলকে চেয়ারম্যান করা হল? মুকুল রায়কে নির্বাচনের প্রতিবাদ করে আমরা হাউস থেকে বেরিয়ে এসেছি। মুকুল রায়কে আজ চেয়ারম্যান করা হলেও উনি বিধায়ক পদই টিকিয়ে রাখতে পারবেন না বলেই আমার বিশ্বাস। কারণ দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব। রীতি অনুযায়ী বিরোধী থেকেই পিএসি চেয়ারম্যান হন, এই প্রথম অন্যথা হল। মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে ৬৪ পাতার অভিযোগ অধ্যক্ষকে দিয়েছি।”

প্রসঙ্গত, বিধানসভার ইতিহাস বলছে, পিএসির চেয়ারম্যান পদে শাসকদলের সদস্যকে বসানো এ রাজ্যে নতুন কিছু নয়। ২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত এ রাজ্যের পিএসি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন মানস ভুঁইয়া। তিনি খাতায় কলমে কংগ্রেস বিধায়ক হলেও পরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তবুও তাঁকেও পিএসি চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়নি। এবার অবশ্য চেয়ারম্যান হওয়ার আগেই দলবদল করেছেন মুকুল রায়।