তুফানগঞ্জে গ্রাম পঞ্চায়েত দখলকে কেন্দ্র করে বিজেপি তৃণমূল ধুন্ধমার, আহত দুপক্ষের বেশ কয়েকজন

56

তুফানগঞ্জ, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ তুফানগঞ্জের গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষে রনক্ষেত্রের চেহারা নিল রামপুর। শুক্রবার দুপুরে তুফানগঞ্জ ব্লকের রামপুর ১ এবং ২ গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করার কথা ছিল তৃণমূলের। তার জেরেই তৃণমূল ও বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা একে অপরের দিকে মারমুখী হয়ে ওঠে । সংঘর্ষের আকার ধারন করলে ঘটনাস্থলে তুফানগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনি ও র‍্যাফ নামানো হয়। সংঘর্ষের মাঝে পুলিশ দাড়িয়ে পরলে দুই দলের কর্মীরা ইট পাটকেল ছুঁড়তে শুরু করে। বিজেপি তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন না এলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে বলে জানা গেছে। কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার ঘটনায় রীতিমতো সাধারন মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। ওই দুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মী আহত হয় বলে জানা গেছে। 

প্রসঙ্গত, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রামপুর ১ এবং ২ দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতা দখল করে তৃণমূল কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার সহ গোটা উত্তরবঙ্গে তৃণমূল বিপর্যয়ের পর একের পর এক গ্রাম পঞ্চায়েত ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মে চলে যায়। সম্প্রতি আবার ওই গ্রাম পঞ্চায়েত গুলি পঞ্চায়েত সদস্যরা ফের তৃনমূলে ফিরে আসা শুরু করেছে।

আর সেই তালিকায় রামপুর ১ এবং ২ দলছুট পঞ্চায়েত সদস্যরা তৃণমূলের পতাকা তলে ফিরে আসার প্রয়াস নিতেই শুরু হয় তুমুল গোলমাল। শুক্রবারের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে বাধ্য হয়। ঘটনায় ৫ বিজেপি কর্মী ও বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী আহত হয় বলে জানা গেছে। এছাড়াও তুফানগঞ্জ থানার ২ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এবিষয়ে বিজেপি নেতা উৎপল দাস বলেন, পঞ্চায়েত দখল করতে তৃণমূল এবং পুলিশ প্রশাসন মিলে এই গণ্ডগোল ঘটিয়েছে। এর সাথে বিজেপির কোন যোগ নেই। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করছে না। এদিনের ঘটনায় আমাদের বিজেপি নেতাদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। যার জেরে আহত হয় আমাদের ৫ জন কর্মী। তাঁরা বর্তমানে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি। আজকের ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং পুলিশ যেভাবে নিরপেক্ষ কাজ করছে। যদি এই পরিস্থিতি দ্রুত বন্ধ না হয় তাহলে আমরা পুলিশ ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব।   

এদিনের ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ধনঞ্জয় বর্মণ বলেন, প্রথমে বিজেপি কর্মীরা আমাদের তৃণমূল কর্মীদের উপর আক্রমণ করে তারপর পুলিশ সেখানে গিয়ে বেধড়ক লাঠিচার্জ করে এবং শূন্যে গুলি চালায়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী আহত হয়। আহতদের তুফানগঞ্জ ২ নং ব্লকের রামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপি যে ভাবে এলাকায় সন্ত্রাস শুরু করেছে তার নিষ্পত্তি হওয়া দরকার।