নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে বিজেপির ‘জন-সম্পর্ক’ অভিযান কোচবিহারে

156

কোচবিহার, ৫ জানুয়ারিঃ রাজ্যের তিনটি বিধানসভার উপনির্বাচনে এনআরসির কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপির। আর সেই এনআরসির ধাক্কা সামলাতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে হাতিয়ার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালানোর কৌশল নিয়েছে বিজেপি। রাজ্যের তৃণমূল, বামফ্রন্ট, কংগ্রেস সহ অন্যন্য দলগুলি এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাতে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নষ্ট করচ্ছে আন্দোলনকারীরা। তবে নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে সেভাবে দেখা যায় নি বিজেপিকে। তাই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে সমর্থন পেতে সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হচ্ছে বিজেপিকে।

রবিবার সকাল থেকে কোচবিহার শহরের ১৬নং ওয়ার্ডের ঘোষপাড়া এলাকায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে সাধারণকে বোঝাতে প্রচারে নেমেছেন মালতী রাভা, সঞ্জয় চক্রবর্তী, বিরাজ বোস সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। এই দিন তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি করা হয় লিফলেট ও পুস্তিকা। পিছিয়ে নেই রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলিও।

এদিন নাগরিকত্ব আইনের প্রচার করতে গিয়ে কোচবিহার জেলা সভানেত্রী মালতী রাভা বলেন,”নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সমর্থনে ‘জন-সম্পর্ক’ অভিযান সারা ভারতবর্ষ জুড়ে চলছে। সেই জন-সম্পর্ক অভিযান কোচবিহারেও শুরু হয়েছে। জেলা, মণ্ডল ও বুথ স্তরের কর্মীদের নিয়ে আমরা এই অভিযান করছি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে দেশজুড়ে তান্ডপের সৃষ্টি করেছে বিরোধীরা। রাজ্য সরকার সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি সাধারন মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য এই আইন প্রদান করা হচ্ছে। কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়।”

তিনি এই ব্যাপারে বর্তমান শাসক দলের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, ‘রাজ্যে মানুষের কাছে ভুল বার্তা প্রচার করছে তৃণমূল। আমরা ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা করছি। এবং সাধারন মানুষকে বোঝাচ্ছি। নাগরিকত্ব আইন সমর্থনের জন্য একটি মোবাইল নম্বর দিচ্ছি। সেই মোবাইল নম্বরে মিসকল দিয়ে নাগরিকত্ব আইনের সমর্থক করার আহব্বানও জানাচ্ছি।”

প্রসঙ্গত, এই নাগরিকত্ব আইন সম্পর্কে সাধারন মানুষকে অবগত করতে খোদ বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ একটি মোবাইল নম্বরে মিসড্‌ কল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন কয়েকদিন আগে। অমিত শাহের ওই নম্বর ঘোষণার পর প্রতিটি রাজ্যে বিজেপির একটি করে টিম তৈরি হয়েছে যারা এই প্রচার কর্মসূচি পরিচালনা করবে। আর এই কারনে ‘জন-সম্পর্ক’ অভিযানে কোচবিহার সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় জেলায় প্রচারে নেমেছে বিজেপি।