অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োগের ফলেই সংক্রমণ হচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের

176

ওয়েব ডেস্ক, ২৪ মেঃ করোনা আতঙ্কের পর ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকাররের তরফে একে মহামারী বলে ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণের ব্যাপারে সতর্কও করা। করোনামুক্ত হওয়ার পরেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকছে। বিশেষত ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকি বেশি থাকে।

এই অবস্থায় ইন্দোরের হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি চাঞ্চল্যকর সমীক্ষা প্রকাশ্যে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের যে ওষুধগুলি দেওয়া হচ্ছে তা থেকেই পরবর্তী সময়ে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। যদিও কেন্দ্রের তরফে বিষয়টি নিয়ে এখনই পাকাপাকিভাবে কিছু জানানো হয়নি।

করোনায় আক্রান্ত হলেই চিকিৎসকরা রোগীদের ডক্সিসাইক্লিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, কার্বাপিনেমের মতো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। কড়া ডোজের সেই অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধে সংক্রমণ কমছে একথা সত্যি। তবে পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু রোগীর ঝুঁকি বাড়ছে। তাঁদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার বিপদ তৈরি হচ্ছে।

সম্প্রতি ইন্দোরের মহারাজা যশবন্ত রাও হাসপাতালের একদল চিকিৎসক একটি সমীক্ষা চালিয়েছেন। ২১০ জন করোনা রোগীর উপর একটি সমীক্ষা চালিয়েছেন। করোনায় সংক্রমিত হওয়ার পর তাঁদেরও ওই ডক্সিসাইক্লিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, কার্বাপিনেমের অ্যান্টিবায়োটিকগুলি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনেকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হন। কোভিড চিকিৎসায় স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের জেরেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্য ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিসকে মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেছে। গোটা দেশে ইতিমধ্যেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে ৯ হাজারের কাছাকাছি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগীই করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমিত হয়েছেন। দেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৭৮.৯ শতাংশই পুরুষ। এছাড়াও, হাসপাতালে ভর্তি থাকা করোনা রোগীদের ৫৯ শতাংশ ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকী করোনামুক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পরেও ৪১ শতাংশ রোগী ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছেন।