কোচবিহারে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ের কেয়ারটেকারের মিলছে না পারিশ্রমিক,ক্ষোভ

25

কোচবিহার, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ খোদ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা কার্যালয়ের কেয়ারটেকার প্রায় ৪ মাস ধরে সন্মানিক না পাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসায় দলের ভিতরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আজ তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি বিনয় কৃষ্ণ বর্মণ দলীয় ওই কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করতে যান। ওই সময় দলের কার্যালয়ে তালা ঝুলানো ছিল। কিছুক্ষন পরে কেয়ারটেকার এসে দরজা তালা খুলে দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে ওই অভিযোগ করেন। এরপরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

চন্দন কুমার দাস নামে তৃণমূল জেলা কার্যালয়ের ওই কেয়ারটেকার অভিযোগ করে জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা মাসিক সন্মানিক পেতেন। কিন্তু গত প্রায় ৪ মাস থেকে সেই টাকা পাচ্ছেন না। নেতাদের কাছে বিষয়টি জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে চন্দন বাবুর অভিযোগ। তাই পূজার মুখে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাকে। যদিও এদিন দলীয় কার্যালয় খুলতে দেরি হওয়ার সাথে তার সন্মানিক না মেলার কোন সম্পর্ক নেয় বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর দাবী, এদিন সাংবাদিক বৈঠক হওয়ার কথা তার জানা ছিল না। তাই খেলাধুলার সাথে যুক্ত মেয়েকে প্রশিক্ষণ শিবিরে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। এনিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মণ বলেন, “যদি এরকম কোন সমস্যা থাকে তাহলে পূজার মুখে সেই সব সমস্যা মিটিয়ে দেওয়া হবে।

গত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার কেন্দ্রে পরাজিত হয় তৃণমূল। এরপর দলের সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে। তাঁর জায়গায় নতুন সভাপতি হন মাথাভাঙ্গা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মণ। কার্যকরী সভাপতি করা হয় যুবনেতা পার্থপ্রতিম রায়কে। এদিন জেলা সভাপতি, কার্যকরী সভাপতি দুই বিধায়ক জগদীশ বর্মা বসুনিয়া ও ফজল করিম মিঞাকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করার জন্য কোচবিহার শহরের ভবানী চৌপথী এলাকায় জেলা দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে উপস্থিত হন। সময়মত উপস্থিত হন সাংবাদিকরাও। কিন্তু জেলা কার্যালয়ের দরজায় তালা থাকায় প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। ফলে সাংবাদিকদের সামনে এমন ঘটনায়  অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায় তৃণমূলের ওই  নেতৃত্বদের।

ওই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই তৃণমূল কর্মীদের মধ্যেও রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছে। অনেক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, জেলা কার্যালয়ের কেয়ারাটেকার ৪ মাস ধরে সাম্মানিক পাচ্ছেন না। এটা কোন মতেই মেনে নেওয়া যায় না। নেতৃত্বকে দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করা উচিত।