কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে পরাজিত করে চাম্পিয়ান আর্জেন্টিনা

43

ওয়েব ডেস্ক, ১১ জুলাইঃ সেমিফাইনালে পেরুকে ১-০ গোলে পরাজিত করে কোপা আমেরিকার ফাইনালে জায়গা করে নেয় ব্রাজিল। অন্যদিকে, শেষ চারে কলম্বিয়াকে পেনাল্টি শুট-আউটে ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় আর্জেন্তিনা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের ফল ছিল ১-১। এবার কোপার খেতাবি লড়াইয়ে সম্মুখসমরে নামে ব্রাজিল-আর্জেন্তিনা। শেষমেশ ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপার খেতাব পুনরুদ্ধার করে আর্জেন্তিনা। সাউথ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ ও কোপা মিলিয়ে মোট ১৫ বার খেতাব জিতল আর্জেন্তিনা। তারা ছুঁয়ে ফেলে উরুগুয়েকে। আপাতত সবথেকে বেশি ১৫ বার করে কোপা জয়ের রেকর্ড যুগ্মভাবে লেখা রইল উরুগুয়ে ও আর্জেন্তিনার নামে। যদিও সবথেকে বেশি ২৯ বার ফাইনালে ওঠা ও ৩৬ বার প্রথম চারে শেষ করার সুবাদে কোপার ইতিহাসে সবথেকে সফল দলে পরিণত হল আর্জেন্তিনা।

অবশেষে আন্তর্জাতিক ট্রফি উঠল লিওনেল মেসির হাতে। অ্যাঞ্জেল ডি’মারিয়ার বিশ্বমানের গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হল মেসির আর্জেন্টিনা। বন্ধুর দৌলতে অবশেষে আর্জেন্টিনার হয়ে ট্রফির খরা কাটালেন মেসি। পূর্ণতা পেল ‘ফুটবল ঈশ্বরে’র কেরিয়ার। এই নিয়ে ১৫ বার কোপা চ্যাম্পিয়ন হল আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ের পাশাপাশি কোপার সবচেয়ে সফল দল তারাই। ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবার কোপা জিতল আর্জেন্টিনা। অর্থাৎ, ২৮ বছর ধরে বড় মানের আন্তর্জাতিক ট্রফির জন্য যে অপেক্ষা আর্জেন্টিনা সমর্থকদের করতে হয়েছিল, সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল মেসিদের হাত ধরেই।

রবিবার মারাকানায় ম্যাচের শুরুটা তেমন জাঁকজমক হয়নি। খেলাও তেমন দৃষ্টিনন্দন হচ্ছিল না। কিন্তু সবকিছু বদলে গেল ম্যাচের ২২ মিনিটে। রড্রিগো ডি’পলের বাড়ানো বিশ্বমানের পাস থেকে বিশ্বমানের চিপ। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের যেন সপ্তম স্বর্গে পৌঁছে দিলেন ডি মারিয়া। ম্যাচের ২২ মিনিটে সেই যে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেল, তারপর শত চেষ্টাতেও আর সমতা ফেরাতে পারেনি ব্রাজিল। নেইমার, রিচার্ডলিসনদের যেন একেবারে পকেটে পুরে ফেললেন ওটামেন্টি, অ্যাকুনারা। নেইমারের পায়ে বল এলেই কোনও না কোনও আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার তাঁকে ট্যাকল করেছেন। আর ডি-বক্সের মধ্যে বল নিয়ে গেলেই পাঁচিলের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন ওটামেন্ডি। গোলরক্ষক মার্টিনেজের কৃতিত্বও কম কিছু নয়। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে। একাধিক বিশ্বমানের সেভ উপহার দিয়ে দলকে জিতিয়ে এনেছেন তিনি।

অন্যদিনের তুলনায় বরং এদিন খানিকটা ম্লান মনে হয়েছে মেসিকেই। তবে,  এবারে আর ট্রাজিক নায়ক নন তিনি। কোপা আমেরিকা ২০২১-এর ইতিহাসে মেসির নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হবে। হ্যাঁ , ম্যাচের শেষ মুহূর্তে স্বপ্নের সুযোগ নষ্ট করার পরও। যে সুযোগটা পেলে হয়তো ১০০ দিনের মধ্যে বাকি ৯৯ দিন চোখ বন্ধ করেও বিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে দিতেন লিও। পাহাড়প্রমাণ চাপে সেটিও নষ্ট করেছেন তিনি। কিন্তু গোটা বিশ্বের অগণিত মেসি ফ্যানের প্রার্থনা হয়তো এতদিনে কাজে এল। সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করা সত্ত্বেও এবারে আর মেসির নামের পাশে ব্যর্থতার তকমা লাগানো যাবে না। এবারে তিনিই চ্যাম্পিয়ন। তাঁর হাত ধরেই ২৮ বছর পর শাপমুক্তি হল আর্জেন্টিনার।