পৌর নির্বাচনের নারী শক্তিকে কাজে লাগাবার আহ্বান চন্দ্রিমার

78

কোচবিহার, ১১ জানুয়ারিঃ লোকসভা নির্বাচনে এরাজ্যে ভালো রকমের ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। পদ্মের দাপাদাপিতে উত্তরবঙ্গের আসন গুলিতে একটিও ঘাসফুল ফোটে নি। এই অবস্থায় দলের পায়ের তলার মাটি ফিরে পেতে কোচ হায়ার করে তৃণমূল নেতৃত্ব। এরপরেই পিকের পরামর্শে রাজ্য জুরে তৃণমূল শুরু করে তাঁর কর্মকাণ্ড। দিদিকে বল কর্মসূচীকে হাতিয়ার করে দল অনেকটাই আসার আলো দেখে। এরপরেই কেন্দ্র বিরোধীর আন্দোলনকে সঙ্গী করে এগুতে চেয়েছে তৃণমূল। এক্ষেত্রে এনআরসি ও ক্যা-কে ইস্যু করে একেবারে যুদ্ধং দেহি অবস্থান গ্রহণ করে তৃণমূল। এই অবস্থায় এরাজ্যের কোয়াটার ফাইনাল গেমে বিধানসভার  ৩ টি উপনির্বাচনে ভালো রকমের সাফল্য পায় রাজ্যের শাসক দল। ফুল ফাইটের গেমে এরাজ্যে ২১-র বিধানসভাই এখন লক্ষ্যে বিজেপি ও তৃণমূলের সেই নির্বাচনকে চূড়ান্ত ধরলে পৌরসভা নির্বাচন আসলে একটি সেমিফাইনাল গেম। তাই পৌর নির্বাচনকে এবারে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

এখন পর্যন্ত সরকারীভাবে এই নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারী না হলেও ধরে নেওয়া হচ্ছে এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে রাজ্যের বেশীরভাগ পৌরসভা গুলিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। এক্ষেত্রে কোচবিহার জেলার ৬ টি পৌরসভার নির্বাচন হবার কথা রয়েছে এসময়ে। এই নির্বাচন গুলিকে পাখির চোখ করে আসরে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কোচবিহারে নারী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই নির্বাচনী যুদ্ধে নামতে চায় তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস। মহিলা ব্রিগেড তৈরি করে নির্বাচনী যুদ্ধে সামিল হবার আহ্বান জানালো তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।

শনিবার কোচবিহার উৎসব অডিটোরিয়ামে জেলা তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের ডাকে পৌরস্তর ভিত্তিক কর্মীসভা সংগঠিত হয়। এই সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মণ, জেলা তৃণমূল নেতা তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কার্যকরী সভাপতি পার্থ প্রতিম রায় প্রমুখ। 

এরাজ্যে খুকু-খোকনরা পৃথক নয়। উন্নয়নের জোয়ারে নারীরাও এখন সাবলম্বি। মহিলাদের মানুষ হয়ে ওঠার লড়াইকে স্বীকৃতি দিয়ে  তাঁদের সাবলম্বি করে তুলেছে এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তার হাতকে শক্ত করতে নারী শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে বলে মন্তব্য করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের রাষ্ট্র মন্ত্রী তথা রাজ্য তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এইদিন অনেকটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢঙে ছড়া কেটে আসর মাত করলেন তিনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে দেবী দুর্গার সাথে তুলনা করে নিজেদের বাহন বলে অভিহিত করলেন তিনি। এই বাহন কখনো কামড়েও দিতে পারে বলেও হুমকি দেন চন্দ্রিমা। তিন বলেন, পায়ে হেঁটে, চটি পরে, পথে চলে যে লড়াই করছে, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকে শক্ত করাই এম এদের কাজ। তাই কোচবিহারের ৬ টি পৌরসভাকে উপহার দেবার আহ্বান জানান কর্মীদের কাছে।

এদিন এই সভায় কেন্দ্রের বিজেপিকে এক হাত নিলেও বামেদের ৩৪ বছরের শাসনের ব্যর্থতার কথাও জানাতে ভোলেন নি তিনি। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের ফিরিস্তি দিয়ে তিনি বলেন, নারীদের ক্ষমতায়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করেছেন তা বিশ্বেও সমাদৃত। বাংলা এগোলেও ভারতের দুটি মানুষ গোটা দেশকে প্রশ্ন চিহ্নের সামনে এনেদিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এনআরসি ও ক্যা নিয়েও তিনি এই মঞ্চে সরব হন। তিনি বলেন, এ রাজ্যর আইনকে বাস্তবায়িত করতে দেওয়া হবে না। গোটা সভায় তাঁর মূল বার্তা ছিল পৌর নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখা।