চিনা ভাইরাসের আতঙ্ক, দেশের বিমানবন্দর গুলিতে জারি সতর্কতা

459

ওয়েব ডেস্ক, ২১ জানুয়ারিঃ নতুন ভাইরাস হানা দিয়েছে চিনে।লক্ষণ সব নিউমোনিয়ার মতো হলেও আসলে অন্য এক মারণ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে অসংখ্য চিনার শরীরে। যার নাম করোনাভাইরাস। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে চিনে। আক্রান্ত প্রায় ১৭০০ জন। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। চিনে এই ভাইরাসের প্রকোপকে সোমবারই স্বীকার করে নিয়েছে সেদেশের বিজ্ঞানীরা। শুধু তাই নয় ইতিমধ্যে এই বাইরাস এশিয়ার আরও তিনটি দেশে নাকি ছড়িয়ে পড়েছে, সৌজন্য চিন।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই নতুন সংস্করণ সেই সাবেক করোনাভাইরাসেরই জ্ঞাতি। তবে এখনই নয়া ভাইরাসটিকে সার্সের মতো বিপজ্জনক ভাবার কারণ নেই বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। তাহলে এত আশঙ্কা কেন? আসলে এর গঠনগত বৈশিষ্ট্য, অভিযোজনের ক্ষমতা বা সংক্রমণের মাধ্যম, কিছুই জানা নেই।ফলে সেটিকে প্রতিহত করা যাবে, সে ব্যাপারেও আঁধারে তাঁরা।শুধু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাথমিক ধারণা, এর সঙ্গে সামুদ্রিক খাবারের বাজারের সম্পর্ক থাকলেও থাকতে পারে। অগ্রিম সতর্কতাই তাই বিধেয়।

সবমিলিয়ে চিনা ভাইরাস নিয়ে বেশ আতঙ্কে ভারত ও বাংলাদেশ। সে দেশে এখনও এই রোগে আক্রান্তের কোনও ঘটনা সামনে না এলেও কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় সরকার। বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। প্রতি বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের সতর্কতা জারি হয়েছে ভারতীয় বিমানবন্দরগুলিতে।

চিন থেকে আসা বিমান যাত্রীদের জন্য তাই থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের বন্দোবস্ত করেছে ভারতের বিমানবন্দর। অভিবাসন সংক্রান্ত চত্বর পর্যন্ত পৌঁছনোর আগেই থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের মধ্যে দিয়ে তাঁদের যেতে হবে বলে জানিয়েছে এয়ারপোর্ট হেলথ অর্গানাজেশন (এপিএইচও)। যদি কারও মধ্যে রোগের উপসর্গ মেলে, সেক্ষেত্রে তাঁকে আইসোলেশন হাসপাতালে পাঠানো হবে। চিন-সফরে যাওয়া ভারতীয়দের জন্য নির্দেশিকাও জারি করেছে সরকার। হাতধোয়া, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হলে সে সংক্রান্ত আচরণবিধি মেনে চলা ও সর্বোপরি কাউকে দেখে অসুস্থ বলে মনে হলে তাঁর থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে তাতে। রান্না না করা মাংস খেতে ও খামারে যেতেও বারণ করা হয়েছে যাত্রীদের।