পিছু হটছে না চিনা সেনা, সীমান্ত নিয়ে বৈঠকে ভারত-চিনের উচ্চপদস্থ সেনা প্রধানেরা

102

ওয়েব ডেস্ক, ২ আগস্টঃ করোনা আবহের মাঝে প্রায় কয়েক মাস থেকে উত্তাপ্ত হয়ে ছিল ভারত-চিন সীমান্ত। আর এই উত্তেজনার মাঝে পরিবেশ স্বাভাবিক করতে ফের বৈঠকে বসেছে ভারত ও চিনের উচ্চপদস্থ সেনা প্রধানেরা। জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল ১১ টা নাগাদ দুই দেশের কম্যান্ডো স্তরের উচ্চপর্যায়ে বৈঠকে বসেছেন। এদিন চিনের মল্ডলোতে হওযার কথা এই বৈঠকটি। প্রসঙ্গত, এই নিয়ে পঞ্চমবার সীমান্ত এলাকা নিয়ে আলোচনায় বসতে চলেছে সেনা আধিকারিকরা। ১৫ জুন প্রথমবার এই নিয়ে সেনা পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল। তবে আদপে এদিনের বৈঠকে কতটা ইতিবাচক সাড়া মিলবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী দু’দেশের তরফে সম্ভবত কথা বলে হবে, প্যানগং-গোগড়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। চিন আগে প্যানগং ও গোগড়া থেকে সেনা সরানোর কথা বললেও বৃহস্পতিবার ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয়ে দুই দেশই সম্মতি দিলেও এখনও পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করেনি চিন।

লাদাখ সেক্টরে সৈন্য সমাবেশ এবং সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে চিনা সেনার সঙ্গে একই জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় সেনা। যদিও ভারতীয় সেনা আধিকারিকরা একটি বিষয়ে স্পষ্ট যে ২০২১ সালে চলতি বছরের এপ্রিলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি চালাতে হবে। এক সেনা কমান্ডার বলেন, ‘পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) আগ্রাসনের পর আমরা চিনাদের বিশ্বাস করি না এবং আমাদের ভয়, ২০২১ সালে গ্রীষ্মকালেই প্যাংগং সো (লেকের) উত্তরে ওরা ফিরে আসবে।’

যদিও প্যাট্রলিং পয়েন্ট ১৪ (গালওয়ান উপত্যকা), ১৫-১৬ (হটস্প্রিং) থেকে চিন সেনা সরিয়ে নিলেও প্যাট্রলিং পয়েন্ট ১৭ এ-র (গোগরা) সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় এখনও লাল ফৌজি রয়েছে। প্যাংগং সো’র বিতর্কিত ফিঙ্গার এলাকা থেকে সেনা সরানোর সম্ভাবনাও এখনও কয়েক যোজন দূরে।

যদিও চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন সপ্তাহখানেক আগেই জানিয়েছিলেন, অযথা তাঁরা বিতর্ক সৃষ্টি করতে চায় না, তাই লাদাখের অধিকাংশ স্থান থেকে চিন সেনা সরিয়ে নিয়েছে। তবে তাঁরা যে যথারীতি মিথ্যে কথা বলছে, তার প্রমান মিলল ভারতের উপগ্রহ চিত্র থেকে। উল্লেখ্য, এর আগেও সেনা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল চিন, তখন অবশ্য গলওয়ান উপত্যকা থেকে এক-দেড় কিলোমিটার পিছিয়ে গিয়েছিল চিনা সেনা। কিন্তু সেই সময়ও পুরোপুরিভাবে সেনা সরায়নি চিন।