মাছ চাষ ও রোগ নিয়ন্ত্রণে চীনা বৈজ্ঞানিকের অভিনব উদ্যোগ বাদুড়িয়ায়

70

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনাঃ চীনা বৈজ্ঞানিকের তত্ত্বাবধানে মাছ চাষের জন‍্য উন্নত মানের পরিচালনা পদ্ধতি ও মাছের পুষ্টি বৃদ্ধির জন‍্য এক অভিনব উদ্যোগ নিল বাদুড়িয়ার এক দল মৎস্য চাষী ও ব‍্যবসায়ীরা। বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়া ব্লকের বাগজোলা গ্রামের মনিরুল মণ্ডলের উদ্যোগে এক মৎস‍্যচাষ প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করা হয়।

মৎস‍্য চাষের স্বর্ণভূমি বলে পরিচিত বসিরহাট। রাজ‍্য, দেশ ছাড়িয়ে ইংল‍্যান্ড, জার্মানি, আমেরিকা সহ পৃথিবীর প্রায় ২২টি দেশে এখান থেকে রপ্তানি করা হয় ট‍্যাংরা, পাঙ্গাশ, মাগুর ও চিংড়ি সহ প্রায় ১১ রকম মাছ। কিন্তু বসিরহাট মহকুমা সহ বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যায় বছরের বিভিন্ন সময়ে মাছ রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ড্রপসি, স্লাইম, ভমিটিং ও ডেসেন্ট্রির মতো রোগে আক্রান্ত হলে প্রচুর ক্ষতির মুখে পড়েন মৎস্যজীবীরা। জল দূষণ, বিশ্ব উষ্ণনয়ন, সঠিক পুষ্টির অভাব, অ্যান্টি বায়োটিকের ব‍্যবহার ও অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ সহ একাধিক কারণে মাগুর, চিংড়ি, কাতলার মতো মাছ গুলি প্রায়শই রোগগ্রস্ত হয়ে মারা যায়। যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মাছ চাষীরা। পাশাপাশি মাছের মূল‍্য বৃদ্ধি হয় ও মাছের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয় মৎস‍্য প্রিয় বাঙালি।

কিন্তু এই প্রশিক্ষণ শিবির থেকে রুপোলি শস্য চাষ করার এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে মনে করছেন উদ‍্যোক্তারা। জেলা সহ রাজ‍্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় সহস্রাধিক মাছ চাষী ও ব‍্যবসায়ীকে নিয়ে এদিনের এই আলোচনা সভায় চীনা মৎস‍্য বিজ্ঞানী ‘মিকি ইউ’ বড় পর্দায় প্রদর্শনী, প্রশ্ন উত্তর পর্বের মাধ্যমে সঠিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষীদের প্রশিক্ষিত করেন। এই প্রশিক্ষণ থেকে মাছের রোগ নির্ণয় ও ফলন বৃদ্ধির কথা শেখার পাশাপাশি মাছ চাষ সংক্রান্ত নিজেদের সমস্যার সমাধান পেয়ে আনন্দিত তারা।