মালদার সুজাপুর কান্ডের তদন্তভার নিচ্ছে সিআইডি’

84

ওয়েব ডেস্ক, ৯ জানুয়ারিঃ বুধবার দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেয় বাম ট্রেড ইউনিয়নগুলি। বামেদের ডাকা এই ধর্মঘটকে সমর্থন করে কংগ্রেস। এদিন সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে বনধের প্রভাব পড়তে দেখা যায়। বাদ যায় নি শহর কলকাতাও। জোর করে ধর্মঘট পালন করাতে উদ্যোগী হয় ধর্মঘটীরা। তবে এদিন উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় মালদার সুজাপুরে। মালদার রথবাড়িতে যাত্রীদের নামিয়ে সরকারি বাসে ভাঙচুর করা হয়। অবরোধকারীদের হঠাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পাল্টা কাঁদানে গ্যাস, রবার বুলেট ছোঁড়ে পুলিশ।

মালদার সুজাপুরে বনধের মধ্যে পুলিশকে মারধোর, বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেশ কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য। বুধবারই এই ঘটনার রাতভর তল্লাশি চালিয়ে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরই পাশাপাশি এদিন এই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে সিআইডি’র হাতে। উল্লেখ্য সুজাপুরের এই ঘটনার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু উর্দিধারীরা এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। এই উর্দিধারীদের খুঁজে বের করতেই ঘটনার তদন্তভার সিআইডির হাতে দেওয়া হচ্ছে বলেই অনুমান।

সেই অভিযোগের জেরেই, এদিন সকালেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন। এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হবে। সেই তদন্তে যারাই দোষী হিসাবে উঠে আসুক না কেন তাঁদের খুঁজে বার করা হবে। পুলিশও যদি ওই ঘটনায় জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর কয়েক ঘন্টা পরেই রাজ্য সরকার জানিয়ে দেয় সুজাপুরের ঘটনার তদন্ত করবে সিআইডি। ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশ প্রশাসন বুধবার রাতভোর অভিযান চালিয়ে মোট ৮ জনকে আটক করে। পরে এদিন সকালে তাদের মধ্যে ১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ওই ৭ জনকে গ্রেফতার করে।

জানা গিয়েছে, বুধবার মালদা জেলার সুজাপুরে ধর্মঘটের সমর্থনে ধুন্ধুমার বাধে। ৩৪ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বাম-কংগ্রেস সমর্থকদের আন্দোলনের সময়, পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে। অবরোধ তুলতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাধে অবরোধকারীদের সংঘর্ষ। চলে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস। শূন্যে গুলিও চালানো হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় পাশের মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে পুলিশের উর্দি পরা একধিক ব্যক্তি ওই ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। সেই ভিডিওর জেরেই বাম-কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, রাজ্য প্রশাসনের তরফেই বাম-কংগ্রেস শিবিরের ডাকা বনধকে কালিমালিপ্ত করতে ওই ঘটনা ঘটান ও হয়েছি।

জানা গিয়েছে, সিআইডি আধিকারিকেরা এদিনই মালদায় যাচ্ছেন। তাঁরা ওই ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ওই বিতর্কিত ভিডিওকে তুললো এবং কার প্রোফাইল থেকে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সেটিও খতিয়ে দেখবেন।