জলপাইগুড়ি পানশালার কান্ডে পুলিশকে ভৎসনা করল সার্কিট বেঞ্চ

16

ছোটন দে, জলপাইগুড়িঃ জলপাইগুড়ি পানশালার কান্ডে পুলিশকে তুলোধনা করল সার্কিট বেঞ্চ। পানশালার আড়ালে দেহ ব্যবসার অভিযোগ তুলে জলপাইগুড়ি থানা রোডের রেস্টুরেন্ট কাম পানশালা সিল করেছে মহিলা থানার পুলিশ। পুলিশের সিল করা ধরম পাশোয়ানের স্ত্রী ফুলমতি পাশোয়ানের বার আগামি ২৪ ঘন্টার মধ্যে বার খুলে দেবার নির্দেশ দিলেন জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারক মৌসুমি ভট্টাচার্য।

এদিন ধরম পাশোয়ানের স্ত্রীর আইনজীবী সৈকত চ্যাটার্জি বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের বিচারক মৌসুমি ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন আগামি ২৪ ঘন্টার মধ্যে বার খুলে দিতে বলেছেন। এছাড়া জেলা পুলিশের মহিলা থানার মামলাটি কে দিয়ে তদন্ত করানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আগামি চারদিনের মধ্যে সিআইডি কে কেসটি তদন্তের জন্য দিতে হবে পাশাপাশি চার চার সপ্তাহের মধ্যে সিআইডি কে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যে মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে পানশালার আড়ালে দেহ ব্যবসা চালানোর অভিযোগ ছিল সেই মহিলা সার্কিট বেঞ্চকে জানিয়েছে তিনি এমন কোন অভিযোগ করেন নি। তিনি বাংলা লিখতে বা পড়তেও পারেন না। তাকে দিয়ে অভিযোগ করানো হয়েছে বলে সৈকত চ্যাটার্জি জানান। সালুজা মোতের বয়ান জেলা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবান বন্দি দেবার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

সৈকত চ্যাটার্জি বলেন,তার মক্কেল সার্কিট বেঞ্চে আবেদন করেছিল তার বার রেস্টুরেন্ট পুলিশ তদন্তের নাম করে সিল করে রেখেছে ফলে তার রোজগার হচ্ছে না। বারটি যাতে খুলে দেওয়া হয় সেই মোতাবেক বিচারক বার খোলার নির্রদেশ দেন।

এদিন জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের এপিপি অদিতি শঙ্কত চক্রবর্তী জানান, আগামি ২৪ ঘন্টার মধ্যে বার খুলে দেবার নির্দেশ বিচারক দিয়েছেন।

এদিন জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অভিষেক মোদী জানান, আমি আদালতের  নির্দেশের কপি দেখিনি।নির্দেশের কপি দেখে তারপর মন্তব্য করব।              

প্রসঙ্গত, ১৬ জুলাই জলপাইগুড়ি মহিলা থানার পুলিশের অভিযোগ পেয়ে থামারোডের ধরম পাশোয়ানের গোল্ডেন ভ্যালী হোটেলের পানশালাতে অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার করা হয় পানশালার ২৮ জন কর্মীকে। রাতেই বার সিল করে পুলিশ। এরপর ৫ জনকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। অবৈধভাবে পানশালায় দেহ ব্যবসা চালানোর অভিযোগে পানশালার ২৮জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।  ধরম পাশয়ানের দুই নম্বর ঘুমটির  দোকান ও বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ।বারে আসা মেয়েরা কোথায় থাকত কি করত কোথায় যেত তার ছানবিন করে পুলিশ। ধরমের বাড়টিকে পুলিশ সিল করে দেয়।

জলপাইগুড়ি পুলিশ সুত্রে যানা গেছে  জলপাইগুড়ি মার্চেন্ট রোডে অবস্থিত একটি নতুন পানশালায় অবৈধ ভাবে ডান্সবারের আড়ালে দেহব্যবসা চলছিল। সেকারনেই জেলা পুলিশ  অভিযান চালায়।